নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল ছ’টা নাগাদ কাঁকুড়গাছির এক পেট্রল পাম্পে গ্যাস নিতে অটোর লাইনে দাঁড়ান সুরেশ কাহালি নামে এক চালক। ১৫ মিনিট দাঁড়ানোর পর তাঁকে বলা হয়, ‘গ্যাস নেই’। এরপর তিনি ছোটেন মানিকতলার একটি পাম্পে। সেখানে প্রায় তিনঘণ্টা লাইনে দাঁড়ান। তারপর গ্যাস ভরাতে পারেন।
এই দুর্ভোগের ছবি কলকাতার দু-একটি পাম্পে শুধু নয়। এ ছবি দেখা যাচ্ছে সর্বত্র। অটো চালকরা জানান, ভোরবেলা আধঘুমে উঠে অটো নিয়ে জ্বালানির জন্য ছুটতে হচ্ছে পাম্পে। নাহলে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে লাইন দিতে হচ্ছে। জ্বালানি ভরতে রীতিমতো যুদ্ধ চালাতে হচ্ছে। উল্টোডাঙার বিভিন্ন রুটের অটো সংগঠনের নেতা বাবলা দাস। তিনি বললেন, গ্যাসের সমস্যা কবে মিটবে কে জানে! আমাদের রোজগার ধাক্কা খাচ্ছে। রোজ তিন থেকে সাড়ে তিনঘণ্টা অটোর জ্বালানি ভরতে দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে। আগে দিনে ১০ ঘণ্টা গাড়ি চালানো যেত। এখন ছয়-সাত ঘণ্টার বেশি চালানো যাচ্ছে না। জ্বালানির দামও প্রায় ছ’টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের রুটে সর্বত্র ভাড়া বাড়েনি বলে ক্ষতি হচ্ছে। প্রথমদিকে মানুষকে ভুগতে হচ্ছিল। তবে রুটগুলিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গাড়ি চালানো হচ্ছে। ফলে অটো পাওয়ার লাইন খুব একটা লম্বা হচ্ছে না। তবে অফিস টাইমে খানিক একটু চাপ হচ্ছে ঠিকই।
বিজয়গড় থেকে টালিগঞ্জ, বেহালা কিংবা ঠাকুরপুকুর, সর্বত্র রুটগুলিতে কম সংখ্যক অটো চলছে। কোথায় কোথায় স্ট্যান্ডে মানুষের লম্বা লাইন। অভিযোগ, বেহালা-তারাতলার কাছে পেট্রল পাম্পে প্রতিদিন রাত ন’টার পর জ্বালানি ভরতে লাইন দিতে হচ্ছে অটোচালকদের। লাইন প্রায় পাঠকপাড়া ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে রোজ। কিন্তু বহু সময় মিলছে না জ্বালানি। চালকদের দাবি, পেট্রল পাম্পগুলি তাঁদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। রাতের দিকে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় ফের আসতে বলা হচ্ছে সকালে। কিন্তু তাতেও সুরাহা হচ্ছে না। খুব ভোরে লাইন না দিলে গ্যাস মিলছে না। সে দিনের জন্য অটো গ্যারেজে ঢুকিয়ে দিতে হচ্ছে।
অভিযোগ, অটোয় ব্যবহৃত এলপিজি শুধু নয়, সবরকমের জ্বালানির ক্ষেত্রেই রাশ টেনেছে তেল সংস্থাগুলি। সমস্ত ডিলারের ক্রেডিট ফেসিলিটি দেওয়া হয়েছে বন্ধ করে। সরকার মুখে যাই বলুক, কম পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছে পাম্পগুলি। ওয়েস্ট বেঙ্গল পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিজিৎ হাজরা বলেন, অটো এলপিজি বা সিএনজি ভরার পরিকাঠামো সব পেট্রল পাম্পে নেই। কলকাতা, শহরতলি বা দুর্গাপুরের মতো শহরে আছে। গ্রামাঞ্চলে সেই সুযোগ কম। যেখানে পরিকাঠামো আছে সেখানে শুধু অটো এলপিজি নয় সবরকমের জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে রাশ টানার প্রবণতা তেল সংস্থাগুলির তরফে দেখতে পাচ্ছি। তার কারণ আমরা আগে বিকেল ৪টে পর্যন্ত জ্বালানি কেনার অর্ডার দিতে পারতাম। এখন দুপুর ২টো পর্যন্ত দিতে পারছি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরিমাণে কম পাচ্ছি। এছাড়া আমাদের ধারে জ্বালানি বিক্রিও বন্ধ করেছে তেল সংস্থাগুলি।