• মশাল হাতে রাজপথে অধ্যাপক ও কর্মীরা
    বর্তমান | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের (আইএসআই) পরিচালন ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে নতুন আইন আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরছে না কেন্দ্রীয় সরকার। আইএসআই’র অভ্যন্তরে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হলেও কেন্দ্রের মনোভাবে যে কোনো পরিবর্তন হয়নি, সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দেওয়া উত্তরে তা পরিষ্কার। তাই এমন আইন আনার বিরুদ্ধে ফের সোচ্চার হলেন আইএসআই’র শিক্ষক, ছাত্র, আধিকারিক, কর্মীরা। বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের মূল গেটের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদ সভা হয়। মশাল হাতে সেখানে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানেরই লোকজন। আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে। ভোটের আবহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিষয়টি ইস্যু করতে চাইছে।

    আইএসআই সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের খসড়া কয়েক মাস আগে প্রকাশ করে মতামত চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেখানে আইন নিয়ে প্রচুর বিরুদ্ধ মতামত জমা পড়েছিল। সম্প্রতি লোকসভায় বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার আইএসআই’র প্রস্তাবিত আইন নিয়ে একটি প্রশ্ন করেন। উত্তর দেন পরিসংখ্যান মন্ত্রী রাও ইন্দরজিত সিং। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আইনের খসড়া যে বিলটি তৈরি হয়েছে, তার উপর বিভিন্ন মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আইনগত অনুমোদন এসে গিয়েছে। এখন মন্ত্রিসভায় এটি পেশ করার প্রক্রিয়া চলছে। কী কারণে এই নতুন আইন করতে হচ্ছে, তার বিস্তারিত ব্যাখাও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কিন্তু আইএসআই’র সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক, ছাত্র, আধিকারিকরা মনে করছেন, নতুন আইনে এই ঐতিহ্যশালী সংস্থার স্বাতন্ত্র, স্বাধীনতা বলে কিছুই থাকবে না।

    এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, ‘বরানগরের ঐতিহ্যের মুকুটে অন্যতম পালক হল আইএসআই। সর্বগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকার সেই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার কাড়তে চাইছে। প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে মেধার উৎকর্ষতার পরিবর্তে গেরুয়াকরণ করতে চাইছে। কিছুদিন আগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর লোকোমোটর ডিজেবিলিটিজ(এনআইএলডি) প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের পেনশন বন্ধ করার নির্দেশ এসেছিল। আন্দোলনের চাপে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। বরানগরবাসী এবারের ভোটে বিজেপিকে জবাব দেবে।’ বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য। জগৎসভায় দেশকে প্রতিষ্ঠা করাই উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের উদ্দেশ্য নতুন কোনো বিল আনা হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিরুদ্ধ মত থাকবে। তা নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বহু ক্ষেত্রেই হয়েছে। আইএসআই বরানগর তথা দেশের গর্বের প্রতিষ্ঠান। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির স্বার্থে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তৃণমূল সহ বিরোধীদের সস্তা রাজনীতি বরানগরবাসী মেনে নেবে না। তারা তৃণমূলের চুরি, দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে জবাব দেবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)