• ফের কমিশনার বদল কলকাতা পুরসভায়, প্রশ্ন পরিষেবা নিয়ে
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: পাঁচ মাসে তিন বার পুর–কমিশনার বদলাল কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation)। প্রায় দেড় বছর কলকাতার পুর–কমিশনার থাকার পরে আইএএস অফিসার ধবল জৈন গত বছর অক্টোবরের শেষে বীরভূমের জেলাশাসক নিযুক্ত হন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আর এক আইএএস সুমিত গুপ্ত। চলতি মাসের ৬ তারিখ তাঁর জায়গায় পুর–কমিশনার হয়ে আসেন আইএএস অনশুল গুপ্ত। মাত্র বারো দিনের মধ্যে বুধবার তাঁকেও সরতে হলো।

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন ২০০৫ ব্যাচের আইএএস স্মিতা পান্ডে। প্রবীণ আধিকারিকদের বক্তব্য, স্মিতাই সম্ভবত কলকাতা পুরসভার সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম মহিলা পুর–কমিশনার। একই সঙ্গে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতার ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের (ডিইও) দায়িত্বও সামলাবেন।

    বুধবার বিকেলে পুরসভার বিদায়ী কমিশনার অনশুল গুপ্ত সব পুর–আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেন। এক সরকারি নির্দেশিকায় গত ৬ মার্চ পুর–কমিশনারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন অনশুল। সব মিলিয়ে তিনি মাত্র বারো দি‍ন দায়িত্ব সামলালেন। পুরসভার এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, এর আগে ১৯৯৭–এ এক আইএএস অফিসার মাত্র চার দিনের জন্যে পুর–কমিশনারের দায়িত্ব সামলেছিলেন। তার পরেই অনশুল গুপ্ত, এত অল্প সময় আর কেউ কমিশনার থাকেননি।

    প্রাক্তন পুর–কমিশনার ধবল জৈন বীরভূমের জেলাশাসকের পদে যোগ দেওয়ার পরে তাঁর জায়গায় পুর–কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন সুমিত গুপ্ত। তিনি এই পদে থেকেছেন চার মাসের কিছু বেশি সময়। পুরসভার প্রবীণ অফিসারদের বক্তব্য, এত ঘন ঘন এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে কমিশনার বদলের ঘটনা পুর–ইতিহাসে নজিরবিহীন। এ দিকে পুর–পরিষেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হচ্ছে পুর–কমিশনারেরই।

    পুরসভার একাধিক আধিকারিকের বক্তব্য, ঘন ঘন সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বদল পরিষেবার ধরাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটায়। একজন কমিশনারের কলকাতা পুরসভার মতো প্রতিষ্ঠানের কাজ বুঝে উঠতেই অন্তত মাস তিনেক সময় লাগে। ঘন ঘন কমিশনার বদলালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আপাতত নতুন পুর–কমিশনার স্মিতা পান্ডের নেতৃত্বেই কাজ করবেন পুর–আধিকারিকরা।

  • Link to this news (এই সময়)