এই সময়: ডিজিটাল অ্যারেস্ট রুখতে দরকার আরও বেশি সচেতনতা। এবং তা করতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের জনসংযোগ আরও বাড়াতে হবে বলে মেনে নিচ্ছে খাস লালবাজার। সম্প্রতি ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার কলকাতার এক অবসরপ্রাপ্ত ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তিন কোটি টাকা খুইয়েছেন। সেই ঘটনার তদন্তে আরও একজনকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠক করেন জয়েন্ট সিপি ক্রাইম রূপেশ কুমার।
বছর ৬৬–র বিধান ঘোষ দস্তিদার গত অক্টোবরে একটি ফোন পান। বলা হয় বেআইনি জিনিস তাঁর নামে কুরিয়রে আসায় সিবিআই ও ইডি তদন্ত করছে। এরপরে ভিডিয়ো কল করা হয় বিধানকে। জাল আইডি কার্ড দেখায় প্রতারকরা। ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর বিধান ও তাঁর স্ত্রীকে সর্বক্ষণ ভিডিয়ো কলের নজরদারিতে রাখা হয়। প্রতারকরা নিজেদের সিবিআই, ইডি, আরবিআই, সুপ্রিম কোর্টের লোগো–সহ নানা জাল নথি দেখায়। ভয় দেখানো হয় টাকা না দিলে গ্রেপ্তার করা হবে। ভয়ে বিধান তাঁর, স্ত্রী ও মেয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩.০১ কোটি টাকা দিয়ে দেন। চারটি অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে সেই টাকা গিয়েছে। এই ঘটনায় মালয়েশিয়ার যোগ পেয়েছে পুলিশ।
এ দিন রূপেশ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ঘটনার তদন্তে অশোকনগর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম অর্পণ সিকদার (২৪)। অশোকনগরে তাঁর বান্ধবীর বাড়ি থেকে ৬ সিম বক্স মিলেছে। এ ছাড়া ১৩০টি সিম কার্ড, চারটি রাউটার উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে আগে আরও দুই অভিযুক্ত আবির শেখ ও মহম্মদ আমজাদ গ্রেপ্তার হয়েছিল। আবির আগেও বিধাননগর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। আমজাদ সিম কার্ড সাপ্লাই করতেন। সেই সময়ে দু’হাজার সিম কার্ড, ১২টি সিম বক্স বাজেয়াপ্ত হয়েছিল।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে কেন এখনও সচেতনতার অভাব রয়েছে? কার্যত পুলিশের তরফে জনসংযোগের খামতি মেনে নিয়ে রূপেশ কুমার বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া, পুজো বা বুক ফেয়ারে কলকাতা পুলিশের স্টলে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা হয়। সম্প্রতি সাইবার প্রহরী নামে ফোন কলের মাধ্যমেও আমরা এ ধরনের অপরাধ আটকাতে সক্ষম হয়েছি। তবে এ বিষয়ে আরও জনসংযোগ বাড়াতে হবে।’ লালবাজার সূত্রে খবর,২০২৪–এ সাইবার জালিয়াতি হয়েছিল ২৭৩ কোটি টাকার। এর মধ্যে ১০ শতাংশ উদ্ধার হয়। ২০২৫–এ জালিয়াতির ২০৭ কোটির ২০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে।
তিন কোটি খোয়ানো বিধান ঘোষ দস্তিদার এখনও পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরত পেয়েছেন।