• ইদের ছুটিতে দিঘায় পাড়ি পর্যটকদের, সিলিন্ডার নিয়ে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, দিঘা: আগের বছর ইদের (Eid al-Fitr) পরের দিনই দিঘায় (Digha Beach) রওনা দিয়েছিলেন রাজদা বিবি। স্বামী, মেয়েকে নিয়ে দিঘায় গিয়ে বেশ আনন্দে কাটিয়েছিলেন। এ বারও কলকাতার রাজাবাজারের রাজদা পরিবার নিয়ে দিঘা যাবেন বলে ঠিক করেছেন। হোটেল বুকিংয়ও হয়ে গিয়েছে তাঁর। কিন্তু এর মধ্যেই দেখা গিয়েছে গ্যাসের সঙ্কট (LPG Crisis)।

    তাঁর আতঙ্ক, দিঘা তো যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু হোটেলগুলিতে (Digha Hotel) গ্যাস মজুত আছে তো? খাবার নিয়ে কোনও অসুবিধায় পড়তে হবে না তো। ইদ, এর মধ্যেই আবার পড়ে গিয়েছে উইকএন্ড। ফলে ভিড় বাড়বে বলে মনে করছে দিঘা প্রশাসন। এর মধ্যেই দিঘার বেশির ভাগ হোটেল বুকিং শেষ হয়ে গিয়েছে। হোটেল মালিকেরা জানান, সবই ঠিক আছে। কিন্তু সিলিন্ডার গ্যাস পর্যাপ্ত না মেলায় চিন্তার রয়েছেন হোটেল মালিকেরা।

    বড় হোটেলের পাশাপাশি ছোটবড় রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকানদারদের কথায়, ‘বৃহস্পতিবারের মধ্যে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সমস্যা বাড়বে। বুকিং করার পরেও গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে মঙ্গলবার দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের কাছে এলপিজি গ্রাহকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।’

    নিউ দিঘার এক হোটেল কর্মী অনন্দকুমার দোলাই বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যা এখনও মেটেনি। হোটেল ও রেস্তোরাঁ চালু রাখতে নানা ভাবে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যার ফলে রান্নার জ্বালানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’ সৈকতের ধারে চা ও টিফিনের দোকান চালান সুভাষ গুচ্ছাইত। তিনি বলেন, ‘বুকিং গ্যাস না পেয়ে বাড়তি দাম দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ভরা পর্যটন মরশুমের মুখে গ্যাসের সঙ্কট চিন্তায় ফেলে দিয়েছে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের।’

    গতবারে ইদে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল দিঘায়। হোটেলে জায়গা না পেয়ে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাতে হয়েছিল অনেক পর্যটককে। অনেক হোটেল দ্বিগুন ভাড়া নিয়েছিল বলে অভিযোগ। দিঘা–শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘নির্বাচন ঘোষণা হলেও আগাম বুকিং দেখে মনে হচ্ছে পর্যটকদের ভিড় জমবে। সিলিন্ডার গ্যাস নিয়ে হোটেল মালিকেরা চিন্তায় রয়েছেন ঠিকই। কিন্তু সিলিন্ডার সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।’

    ওল্ড দিঘার এক হোটেল মালিক সহস্রাংশু মাইতি বলেন, ‘গ্যাস সঙ্কট এখন কাটেনি। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে শোনা যাচ্ছে । দেখা যাক কী হয়।’ দিঘার এক গ্যাস সরবরাহ সংস্থার কর্মী গৌতম দাস বলেন, ‘আমাদের কাছে গ্যাস এলে তা সবার আগে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিই। কিন্তু আমাদের কাছে গ্যাস সিলিন্ডার না এলে আমাদের কিছু করার থাকে না।’

  • Link to this news (এই সময়)