• 'উদ্যোগী কৃষক' থেকে ভোটের ময়দানে
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, বারুইপুর: 'উদ্যোগী কৃষক' হিসেবে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন। কৃষিকাজের মাধ্যমে মহিলারা কী ভাবে স্বনির্ভর হতে পারেন, তার দিশা দেখাচ্ছেন কুলপির অশ্বত্থতলার বাসিন্দা বর্ণালী ধাড়া। তাঁর দেখানো পথে অনেক গরিব ঘরের মহিলারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁকেই এ বার কুলপি বিধানসভা থেকে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে।

    তিনবারের বিধায়ক তথা জেলার প্রবীণ তৃণমূল নেতা যোগরঞ্জন হালদারকে সরিয়ে তাঁকে প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছে দল। একই ভাবে রায়দিঘির বিধায়ক অলোক জলদাতাকে সরিয়ে তৃণমূল প্রার্থী করেছে এলাকার প্রাক্তন শিক্ষক, নাট্যকার এবং যাত্রাশিল্পী তাপস মণ্ডলকে।

    বর্ণালীর মত তাপসও জীবনের প্রথমবার ভোটে লড়তে নামছেন। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই দু'জনেই প্রচারে নেমে পড়েছেন। দু'জনেই জানিয়েছেন, আপাতত তাঁরা বুথ এবং অঞ্চল ভিত্তিক ছোট ছোট কর্মিসভা সারছেন। তারই ফাঁকে মিছিলে যোগ দিচ্ছেন। কখনও আবার । বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ সারছেন। এলাকার পরিচিত মুখ হওয়ায় তাঁদেরকে কাছে পেয়ে অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন। কেউ আবার প্রার্থীকে হাতের নাগালে পেয়ে তাঁদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।

    বছর পঞ্চাশের বর্ণালীর চাষবাসের প্রতি আগ্রহ ছোট বয়স থেকেই। তাঁর বাপেরবাড়ি কাকদ্বীপে। বাবা, মা দু'জনেই শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। তার সঙ্গে গোরু প্রতিপালন, ধান চাষ ও নিজস্ব আনাজের বাগান রয়েছে। যদিও বিয়ের পরে তিনি চলে যান কুলপিতে। স্বামী পেশায় স্কুল শিক্ষক। এক সময় তাঁদের সার ও বীজের দোকানও ছিল। সেই দোকানে এলাকার কৃষকরা আসতেন। সেই সূত্রে বহু কৃষকের সঙ্গে তাঁর সখ্য হয়। কৃষিকে লাভজনক করে তুলতে নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে ২০১৭ সালে প্রশিক্ষণ নেন।

    তারপরে গ্রামে গড়ে তোলেন এফপিসি (ফার্মার্স প্রডিউসার কোম্পানি) ও এফআইজি (ফার্মাস ইন্টারেস্ট গ্রুপ)। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কৃষি বিষয়ক একাধিক প্রকল্পের কথা জানতে পারেন। তখন থেকেই সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে চাষবাস, হাঁস, মুরগি, ছাগল, গোরু প্রতিপালন শুরু করেন। বর্ণালীর হাতে তৈরি অশ্বত্থতলা জনকল্যাণ মহিলা সমিতির সদস্য সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বর্তমানে ২ হাজারের বেশি মহিলা তাঁর সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সকলেই স্বনির্ভরতার পাঠ নিচ্ছেন। বীজ, জৈব সার, সেচ ব্যবস্থা নিয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাঁরা।

    এ দিন প্রচারের ফাঁকে বর্ণালী জানালেন, 'ঘর সামলেছি। স্বামীর সারের দোকান সামলেছি। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার কয়েক হাজার মহিলাকে স্বনির্ভর করতে পেরেছি। এ বার সাংসদ বাপি হালদারের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা। এতদিন অন্য এক জগৎ থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। এ বার রাজনীতির জগতে এসে মানুষের জন্য আরও অনেক কিছু করতে চাই। এলাকার যে সমস্ত উন্নয়ন এখনও বাকি আছে, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে সেগুলোও সম্পূর্ণ করতে চাই।' তিনি বলেন, 'প্রচারে বেরিয়ে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সমস্ত জায়গায় তৃণমূল আর তৃণমূল। সিপিএম এবং বিজেপির কোনও সংগঠনই নেই। ফলে জেতার ব্যাপারে আমি ১০০ শতাংশ আশাবাদী।'

    রায়দিঘির তৃণমূল প্রার্থী তাপস মণ্ডল বলেন, 'আমি রাজনীতির এত মারপ্যাঁচ বুঝি না। সাংস্কৃতিক জগত থেকে রাজনীতিতে এসেছি বৃহৎ অংশের মানুষের উন্নয়ন ঘটাতে, যাতে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। সেই সঙ্গে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর চেহারা বদলাতে এসেছি।'

  • Link to this news (এই সময়)