• মিড-ডে মিল কেন বন্ধ? প্রশ্ন করায় মারধরের অভিযোগ
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, দেগঙ্গা: মিড-ডে মিল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল দেগঙ্গা চৌরাশি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে মামলাও হয় কোর্টে। বিষয়টি বিচারাধীন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্কুলে মিড-ডে মিল অনিয়মিত হচ্ছিল। গত দু'মাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্কুলের মিড-ডে মিল। বুধবার এর কারণ জানতে চাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে উত্তেজনা ছড়ায় স্কুলে। যদিও মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই দাবি প্রধান শিক্ষকের।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেগঙ্গা চৌরাশি হাইস্কুলের মিড-ডে মিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে প্রায় এক বছর আগে। মিড-ডে মিলের দুর্নীতিতে খোদ প্রধান শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন বলে থানা, বিডিও, পঞ্চায়েতেও অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অভিযোগের তদন্ত করা হয় ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তা নিয়ে কোর্টে মামলাও হয়। এর জেরে অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিল স্কুলের মিড-ডে মিল।

    গত দু'মাস শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্কুলে আসেননি প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার ইসলাম। এর ফলে গত দু'মাস বন্ধ ছিল স্কুলের মিড-ডে মিল। স্বাভাবিক ভাবেই তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। এ দিন প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসতেই মিড-ডে মিল কেন বন্ধ, তার কারণ জানতে চান পড়ুয়ারা। অভিযোগ, তখনই কয়েকজন পড়ুয়াকে প্রধান শিক্ষক মারধর করেন।

    ক্লাস নাইনের ছাত্রী তৌসিনা খাতুন বলেন, 'গত ১১ মাস ধরে স্কুলের মিড-ডে মিল বন্ধ। এদিন প্রধান শিক্ষক স্কুলে আসতেই আমরা জানতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছোট ছোট পড়ুয়াদের উনি স্কেল দিয়ে মেরেছেন।' স্কুলের ক্লাস এইটের ছাত্র সুরজ মণ্ডল বলেন, 'আমরা চাই স্কুলের মিড-ডে মিল ফের চালু হোক।'

    প্রধান শিক্ষক শাহরিয়ার ইসলাম বলেন, মিড-ডে মিল নিয়ে আমার বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ করা হচ্ছে, এটা ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমি দু'মাস স্কুলে আসেনি। মিড-ডে মিল যে শিক্ষকের উপরে দায়িত্ব ছিল, তিনিও কোনও ব্যাবস্থা নেননি। ফলে দু'মাস বন্ধ ছিল মিড-ডে মিল। এ দিন ছাত্রছাত্রীরা অন্যের শেখানো কথা বলতে এসেছিল। ওরা স্কুলে গন্ডগোল করছিল। বকাবকি করাতে কেউ পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। কোনও মারধোর করা হয়নি।'

  • Link to this news (এই সময়)