• ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’, IAS-IPS বদলি নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলেন মমতা
    এই সময় | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার পদে বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে সোমবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির কোনও জবাব আসেনি। বদলি থামায়নি কমিশন। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে ফের কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘নজিরবিহীন’ ভাবে আমলা ও পুলিশ কর্তাদের বদলির ঘটনায় মমতার দাবি, ‘আমরা বর্তমানে যা দেখছি, তা কার্যত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং এক ঘোষণাহীন রাষ্ট্রপতি শাসন ছাড়া আর কিছুই নয়।’

    এ দিন সমাজমাধ্যমে মমতা লেখেন, ‘নির্বাচনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার-সহ ৫০-এরও বেশি শীর্ষ আধিকারিককে হঠাৎ স্বেচ্ছাচারী পন্থায় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।’

    কমিশন ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান না নিয়ে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর কথায়, ‘যে সব প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ থাকার কথা, সেগুলোর উপরেও যে ভাবে সুপরিকল্পিত ভাবে রাজনীতির প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, তা সংবিধানের উপর এক প্রত্যক্ষ আঘাত।’

    এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা কেন প্রকাশিত হলো না, তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। মমতা ফেসবুকে লেখেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্পষ্ট ভাবে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। যার ফলে নাগরিকরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে, আইবি (IB), এসটিএফ (STF) এবং সিআইডি (CID)-র মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর বরিষ্ঠ আধিকারিকদের বেছে বেছে পদ থেকে সরিয়ে রাজ্যের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে; যা বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার দিকেই ইঙ্গিত করে।’

    অন্য দিকে, একাধিক আইপিএসকে বদলির সময়েই বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজাকে ভিন রাজ্যের নির্বাচনে পুলিশ অবজ়ার্ভার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্তে কিছুটা রদবদল করা হয়। কমিশনের ‘স্ববিরোধী’ পদক্ষেপের সমালোচনা করে মমতা লেখেন, ‘শিলিগুড়ি এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার সময়ে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত কাউকে আগে থেকে নিয়োগ না করার ফলে এই দু'টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। এই চরম প্রশাসনিক ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পরেই তড়িঘড়ি করে সংশোধনের পদক্ষেপ করা হয়। এটি কোনও সুশাসন বা প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; বরং এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতারই প্রতিফলন।’

  • Link to this news (এই সময়)