চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম ও বলাগড়। হুগলি জেলার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে পিছিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলি লোকসভা থেকে তারকা প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালো ব্যবধানে জিতলেও এই তিনটি কেন্দ্র কপালে ভাঁজ ফেলেছিল রাজ্যের শাসকদলের। শেষমেশ হুগলির এই তিনটি কেন্দ্রেই প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। সপ্তগ্রাম আসনে হাওড়া জেলা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ফুটবলার বিদেশ বসুকে। বহিরাগত প্রার্থী কি খেলা দেখাবেন এই আসনে? শুরু চর্চা।
জেলা নেতৃত্বের অনেকেই দাবি করেন, হুগলিতে তৃণমূলের ভিত শক্ত করার কাজ করেছিলেন সপ্তগ্রামের প্রাক্তন প্রার্থী তপন দাশগুপ্ত। ২০১১ সাল থেকে এই আসনে টানা তিন বার জিতে এসেছেন তপন দাশগুপ্ত। তবে এ বার তিনি নিজেই টিকিট চাননি বলে খবর। তপন বলেন, ‘দিদি যা করেছেন, তা আমি মেনে নিয়েছি। দিদি যেটা ভালো বুঝেছেন, সেটা করেছেন। আমি সপ্তগ্রামে টিকিট চাইনি।’
২০২১ সালে এই আসন থেকে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯৩,৩২৮টি ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির দেবব্রত বিশ্বাস ৮৩,৫৫৬ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সেই হিসাব অনেকটাই পাল্টে যায়। এই কেন্দ্র থেকে রচনা পেয়েছিলেন ৮৫,২৬৮টি ভোট। সেখানে বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায় পেয়েছিলেন ৮৭,৭৬০টি ভোট।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, একদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং এর পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতার কারণে এই কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করার প্রয়োজন মনে করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণেই প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসুকে উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে এই আসনে নিয়ে আসা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সপ্তগ্রামে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন বিদেশ বসু। বুধবার বিকেলে সপ্তগ্রাম বিধানসভার চুঁচুড়া-মগরা ব্লক অফিসের সামনের মাঠে ক্রিকেট খেলে জনসংযোগ করেন তিনি।
বিদেশ বলেন, ‘এলাকার মানুষের যে অফুরন্ত ভালোবাসা ও আশীর্বাদ পেলাম, তাতে আমি আপ্লুত। সপ্তগ্রামের প্রতিটি মানুষের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। আপনাদের এই ভরসাই আমার পথ চলার শক্তি।’ সপ্তগ্রাম বিধানসভার অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠকও সেরে ফেলেছেন বিদেশ। সম্প্রতি সপ্তগ্রাম, মগরা, বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলের এক সময়ের দাপুটে তৃণমূলের যুব নেতা দেবব্রত বিশ্বাসকেও দলে ফিরিয়ে এনেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে স্থানীয় নেতৃত্ব আগের তুলনায় অনেকটাই চাঙ্গা। ২৬-এর নির্বাচনে খেলা ঘুরিয়ে বিরোধীদের জালে বল ঢোকাতে পারবেন বিদেশ? আশায় বুক বাঁধছে শাসক শিবির।