• কমিশনের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মমতার
    আজকাল | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত রবিবার নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে একাধিক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। যার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল। তড়িঘড়ি পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ফের একবার কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা ব্যানার্জি। পুরো বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক ইঙ্গিত বলে সোশাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন তিনি।

    নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ ৫০-এরও বেশি শীর্ষ আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, 'এটি কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।' কমিশনের পদক্ষেপকে তিনি 'বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা' বলেও দাবি করেছেন।

    কমিশনের কার্যকলাপের মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে মনে করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। উদাহরণ তুলে তিনি লিখেছেন, 'তারা (কমিশন) দাবি করে যে, অপসারিত আধিকারিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়; অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই একই আধিকারিকদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার সময় তাঁদের স্থলাভিষিক্ত কাউকে আগে থেকে নিযুক্ত না করায়, এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগরকেন্দ্র কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। এই চরম প্রশাসনিক ত্রুটিটি প্রকাশ্যে আসার পরেই কেবল তড়িঘড়ি করে সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি কোনও সুশাসন বা প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; বরং এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতারই প্রতিফলন—যাকে জোর করে 'কর্তৃত্ব' হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।'

    ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০০- জনেরও বেশি প্রাণহানির কথা তুলে ধরে সোশাল মিডিয়া পোস্টে মমতা বলেছেন, 'কমিশনের কার্যকলাপ তাদের স্পষ্ট পক্ষপাতদুষ্টতা এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে অস্বস্তিকর আত্মসমর্পণেরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে; যা বাংলার মানুষকে ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।' কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর আরও অভিযোগ যে, 'মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশাবলিকে স্পষ্টভাবে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যার ফলে নাগরিকরা গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।' 

    পাশাপাশি বিজেপির ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, 'কেন বাংলা এবং বাংলার মানুষের ওপর এই অবিরাম আক্রমণ চালানো হচ্ছে? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও, নাগরিকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করার মধ্যে তারা ঠিক কী ধরনের তৃপ্তি খুঁজে পায়?'

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিটা আধিকারিক এবং তাঁদের পরিবারের পাশে তিনি পূর্ণ সংহতি নিয়ে দাঁড়াচ্ছেন বলেও আস্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে তাঁর হুঁশিয়ারি, 'বাংলা কখনওই ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বাংলা লড়াই করবে, বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং বাংলার মাটিতে বিভেদকামী ও ধ্বংসাত্মক কোনও এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করবে।'




     
  • Link to this news (আজকাল)