• ডেবরা পেয়ে খুশি নন রাজীব, বলছেন, 'অন্য জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল'
    আজ তক | ১৯ মার্চ ২০২৬
  • গত বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলন তৎকালীন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার ডোমজুর কেন্দ্র থেকে পদ্ম শিবিরের হয়ে প্রার্থীও হয়েছিলেন রাজীব। তবে শেষ পর্যন্ত হারতে হয়। ভোট পরবর্তী সময়ে ফের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন রাজীব। সেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার ডেবরা থেকে প্রার্থী করেছেন তৃণমূলনেত্রী। ফলে নিজের পুরনো আসনে ফিরতে পারেননি রাজীব। আর এই আবহেই টিকিট পেয়েও তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন রাজীব। 

    প্রসঙ্গত, ডেবরার বিধায়ক আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে ডোমকল কেন্দ্রে পাঠিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার ডেবরায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে বিজেপি প্রার্থী শুভেশিস ওমের বিরুদ্ধে লড়াই অন্যতম চ্যালেঞ্জ রাজীবের। সূত্রের খবর, রাজীবকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করতে চেয়েছিল তৃণমূল। যদিও সেই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী। এরপরেই ডেবরায় প্রার্থী করা হয় তাঁকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজীব বলেন, 'আমার ডেবরা আসার কথা ছিল না।' এর আগে রাজীব ডোমজুর থেকে বিধায়ক থেকেছেন। 

    কর্মীদের সামনেই একটি ভিডিয়োতে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'দল আমাকে আপনাদের এখানে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আগে আর এক জায়গার নাম বলেছিল। কিন্তু যে কোনও কারণে হোক সেটা পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আমার তো ডেবরায় আসার কথা ছিল না। অন্য জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল।' রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

     দলের অভ্যন্তরে যে কোন্দল রয়েছে, তা কার্যত মেনে নিয়েছেন তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতিও। ক্যামেরার সামনেই স্বীকার করেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা। তবে তাঁর দাবি, 'এটি বড় কোনও বিষয় নয়। আমরা সমস্ত গোষ্ঠীর নেতাদের এক টেবিলে বসিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নেব। নির্বাচনের লড়াইয়ে সবাই একজোট হয়েই নামবে।'

    এদিকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেবরার প্রার্থী করায় 'বহিরাগত' ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। এই নিয়ে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেছেন, 'ডেবরার মানুষ এবার একজন ভূমিপুত্রকেই বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান। আমরা সেই আবেগকেই সম্মান জানিয়ে স্থানীয় প্রার্থী দিয়েছি। তৃণমূলের অন্দরে পরিস্থিতি এমন যে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেউ প্রার্থী হতে চাইছেন না। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে প্রার্থী আমদানি করতে হচ্ছে।'
  • Link to this news (আজ তক)