টিকিট পেলেন হিরণ, রূপার লড়াই লাভলির বিরুদ্ধে! আরও ১১২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি, বাকি ৩৮টি
আনন্দবাজার | ১৯ মার্চ ২০২৬
দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি। প্রথম তালিকায় একটি বদলও করা হয়েছে। হাওড়ার শ্যামপুরে টিকিট পেয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা যাবে তৃণমূলের লাভলি মৈত্রের লড়াই। নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহ। সেখানে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের সঙ্গে লড়বেন তিনি। ব্যারাকপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। তাঁর লড়াই তৃণমূলের তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে। তবে পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি বিজেপি। দ্বিতীয় দফার তালিকায় ওই কেন্দ্রের নাম নেই। শোনা যাচ্ছে, ওই কেন্দ্র থেকে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মাকে টিকিট দেবে বিজেপি। এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ঘোষণা হয়নি।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে মাথাভাঙায় প্রার্থী করা হয়েছে। টালিগঞ্জে পাপিয়া অধিকারীকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। তিনি লড়বেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। যাদবপুরে টিকিট পেয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল বিদায়ী বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারকেই প্রার্থী করেছে। সিপিএমের হয়ে যাদবপুরে লড়ছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এ ছাড়া, প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল বিজেপির টিকিট পেয়েছেন এন্টালি থেকে। বিধাননগরে প্রার্থী করা হয়েছে চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। তাঁকে লড়তে হবে মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে। রাজারহাট গোপালপুরে বিজেপির প্রার্থী তরুণ আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি লড়বেন অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে। জোড়াসাঁকোয় প্রার্থী করা হয়েছে দীর্ঘ দিনের কাউন্সিলর বিজয় ওঝাকে।
কলকাতায় বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী দলের যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ। তৃণমূলের রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন তিনি। বেহালা পূর্বে বিজেপির প্রার্থীর নাম সুনীল মহারাজ। কাশীপুর বেলগাছিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন রিতেশ তিওয়ারি। তাঁর লড়াই অতীন ঘোষের সঙ্গে। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তাপস রায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে মানিকতলায়। প্রাক্তন বিধায়ক সাধন পাণ্ডের কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁকে লড়তে হবে। বালিগঞ্জের প্রার্থী বিজেপির জাতীয় পরিষদ সদস্য শতরূপা। তাঁর লড়াই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে।
কৃষ্ণগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক আশিস বিশ্বাসকে টিকিট দিল না বিজেপি। সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে সুকান্ত বিশ্বাসকে। মতুয়া গড় হিসাবে পরিচিত বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটায় বিদায়ী বিধায়কেরাই প্রার্থী হয়েছেন— যথাক্রমে অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার এবং সুব্রত ঠাকুর। স্বরূপনগরে প্রার্থী হয়েছেন তারক সাহা। হাবড়ার প্রার্থী করা হয়েছে বনগাঁ জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডলকে। তিনি লড়বেন তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারকে। সিনিয়রিটি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন রাজ্য পুলিশের ডিজি করা হল না, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন এই রাজেশ।
বহু চর্চিত সন্দেশখালিতে বিজেপি প্রার্থী সনৎ সর্দার। হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সন্দেশখালি আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেত্রী রেখা পাত্রকে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় প্রার্থী করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে। পুরুলিয়া সদরে সুদীপ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া সদরে নীলাদ্রিশেখর দানা আবার টিকিট পেয়েছেন। কালিম্পঙে প্রার্থী করা হয়েছে ভারতীয় হকি দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ভরত ছেত্রীকে। তিনি ২০১৮ সালে ধ্যানচাঁদ পুরস্কার পেয়েছিলেন।
প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনের প্রার্থিতালিকা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। দ্বিতীয় দফায় ১১২টি আসনের পর এখন বাকি রইল ৩৮টি আসন। প্রথম দফার তালিকা থেকে এক জনের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে এর আগে বিজেপি প্রার্থী করেছিল অগ্নিশ্বর নস্করকে। তা বদলে ওই কেন্দ্রে বিশ্বজিৎ খাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। জয়পুর কেন্দ্রে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীর নাম বিশ্বজিৎ মাহাতো। বিজেপির দ্বিতীয় দফার এই তালিকায় ২০ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন।
দ্বিতীয় দফার এই তালিকায় ছ’জন বিদায়ী বিধায়ককে ফের টিকিট দিয়েছে বিজেপি। তাঁরা হলেন ময়নাগুড়ির কৌশিক রায়, বনগাঁ উত্তরের অশোক কীর্তনিয়া, বনগাঁ দক্ষিণের স্বপন মজুমদার, গাইঘাটার সুব্রত ঠাকুর, পুরুলিয়ার সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং বাঁকুড়ার নীলাদ্রিশেখর দানা। টিকিট দেওয়া হয়নি পাঁচ জন বিদায়ী বিধায়ককে। তাঁরা হলেন মাথাভাঙার সুশীল বর্মণ, দার্জিলিঙের নীরজ তামাং জিম্বা, কৃষ্ণগঞ্জের আশিস বিশ্বাস, ভগবানপুরের রবীন্দ্রনাথ মাইতি এবং জয়পুরের নরহরি মাহাতো। এক বিদায়ী বিধায়কের আসন বদল করা হয়েছে। খেজুরির বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিককে খেজুরি থেকে সরিয়ে ভগবানপুরে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ভোটগ্রহণ হবে। ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ রয়েছে ১৪২টি আসনে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোট হচ্ছে। ২০২১ সালে ভোট হয়েছিল আট দফায়। তৃণমূল ২৯১টি আসনের প্রার্থিতালিকা ইতিমধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছে। অন্য দলগুলি দফায় দফায় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছে। সিপিএমও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তার পরেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির প্রার্থিতালিকা।