মিল্টন সেন: দলের টিকিট না পেয়ে অভিমানে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সর্বভারতীয় নেতা অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে ফোনালাপের পর অবস্থান বদল করলেন তিনি।
জানালেন, দলীয় প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের হয়ে প্রচারে নামবেন। বুধবারই অসিত মজুমদারের মান ভাঙাতে তাঁর বাড়িতে যান এবার নির্বাচনে চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য।
এরপর চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে বিধায়কের দপ্তরে পঞ্চায়েত ও পুরসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন দু’জনে। বৈঠকের পর তাঁদের একান্তে আলোচনা করতেও দেখা যায়।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসিত মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী একটাই মমতা ব্যানার্জি, আর নেতা একটাই অভিষেক ব্যানার্জি। এখানে বিধায়ক বা সাংসদের আলাদা কোনও গুরুত্ব নেই।’
চুঁচুড়ায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, সব পক্ষকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে এবং দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে হবে। টিকিট না পাওয়ায় তাঁর মনে আঘাত লেগেছিল বলেও স্বীকার করেন অসিত।
তিনি বলেন, ‘অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে কথা বলার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি দেবাংশুর হয়ে প্রচারে নামব। সেই মতো কর্মীদেরও নির্দেশ দিয়েছি।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, টিকিট না পাওয়ার পর যারা বাজি ফাটিয়ে উল্লাস করেছে, তারা সবাই বিরোধী দলের সমর্থক।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অসিত মজুমদার বলেন, ‘আমি এখন বিধায়ক আছি বলেই অনেক মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছেন। যেদিন আর এই পদে থাকব না বা রাজনীতি করব না, সেদিন কেউ থাকবে না।’
রাজনীতির ময়দানে লড়াই থাকলেও পারিবারিক স্নেহের বন্ধন যে অটুট, তার প্রমাণ মিলল চুঁচুড়ায়। টিকিট না পেয়ে গত কয়েকদিন ধরে দলের ওপর যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক আসিত মজুমদার, বুধবার তাতে ইতি পড়ে।
এদিন প্রচারের মাঝেই আসিতবাবুর বাড়িতে পৌঁছে যান তৃণমূলের তরুণ তুর্কি তথা এই কেন্দ্রের নতুন প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। দীর্ঘ আলোচনার পর দীর্ঘদিনের ‘অভিমান’ ধুয়ে মুছে গিয়ে তৈরি হলো এক নতুন রসায়ন।
এদিন প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকে আসিত মজুমদারের গলায় যে সুর শোনা গিয়েছিল, এদিন তা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। দেবাংশুকে পাশে নিয়ে বর্ষীয়ান এই নেতা জানান, ‘দেবাংশু আমার সন্তানের মতো। ও অনুরোধ করেছে, তাই ওর পাশে আমি আছি।’
শুধু তাই নয়, অসিত স্পষ্ট করে দেন যে মমতা ব্যানার্জিকে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্যপূরণে তিনি দেবাংশুর হয়ে জান লড়িয়ে দেবেন।
অন্যদিকে, বড় দাদার থেকে আশীর্বাদ নিয়ে আপ্লুত দেবাংশু বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি যেমন আমাদের মাথার ওপরে আছেন, চুঁচুড়ায় আমাদের অভিভাবক হলেন অসিতদা। দাদাকে ছাড়া আমি এখানে এক পা-ও চলতে পারব না। গত কয়েকদিন উনি যা বলেছেন, তা আদতে অভিমান থেকেই বলেছেন, আর সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ এদিন দুজনেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাঁদের একসঙ্গে প্রচারে দেখা যাবে।