• বালিগঞ্জে আসল চ্যালেঞ্জ কী? জানালেন বাম প্রার্থী
    আজকাল | ২০ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা বিজেপির ডঃ শতরূপা, কাউকেই হেভিওয়েট মনে করছেন না তিনি। বালিগঞ্জ বিধানসভায় সিপিএমের প্রার্থী আফরিন বেগমের মতে সবচেয়ে হেভিওয়েট সেখানকার সাধারণ মানুষ।

    আমজনতার মন জয় করাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি। আফরিনের বিপরীতে লড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী এবং রাজ্যের বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে রয়েছেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির ডঃ শতরূপা। 

    টিকিট পাওয়ার পর আজকাল ডট ইনকে ফোনে আফরিন জানালেন, 'দেখুন তৃণমূল বা বিজেপি এখানে কেউ হেভিওয়েট নয়, আমি নিজেও হেভিওয়েট নই। হেভিওয়েট আসলে বালিগঞ্জ বিধানসভার সমস্ত মানুষ। তাঁদের হয়ে লড়াই করাটাই আমার কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।'

    আফরিনের সাফ বক্তব্য, ‘নির্বাচনে যখন নেমেছি, তৈরি হয়েই নেমেছি। আমরা বাংলা বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছি। বাংলার মানুষকে রক্ষা করার লড়াইয়ে নেমেছি, তাদের রুটি রুজি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য অন্ন, বাসস্থান সমস্ত কিছুর লড়াইয়ে আমরা নেমেছি। বাংলার অন্যান্য এলাকার মতো বালিগঞ্জ বিধানসভার মানুষও যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে সেটার বিরুদ্ধেই লড়াই।’

    বিশেষ কোনও ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাবেন? আফরিনের সাফ জবাব, ‘বিশেষ ইস্যু বলতে এসআইআরটা একটা ভয়ঙ্কর বড় ইস্যু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। যাঁদের ১৮ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে, তরুণ ভোটার, তাঁদের নামও এবারে বাদ পড়েছে। ভোটদান করার তাদের যে অধিকার সেটাই তারা পাবে কি না, সেটাই অনিশ্চয়তার মুখে।’

    তবে এসআইআরের পাশাপাশি, আফরিন যেখান থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছেন সেই বালিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত বিভিন্ন স্কুল যেভাবে বন্ধের মুখে তার বিরুদ্ধে সরব হবেন বলে জানালেন তিনি।

    তাঁর কথায়, ‘বালিগঞ্জ বিধানসভার ক্ষেত্রে যেভাবে স্কুলগুলো, গোটা পশ্চিম বাংলা জুড়ে স্কুলগুলো উঠে যাচ্ছে, বালিগঞ্জ গভমেন্ট থেকে শুরু করে আরও যে সমস্ত স্কুল, সেগুলোর যে পরিকাঠামোগত ক্ষতি সেগুলো যেভাবে হয়েছে দিনের পর দিন, শিক্ষক নেই বলে বিষয় বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। তাছাড়া, যাঁরা বস্তিতে থাকেন তাঁদের শৌচালয়ের ইস্যু নিয়েও আমরা লড়াই করব।’

    পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলার বাইরে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাকেও বড় ইস্যু বলে জানালেন আফরিন। বললেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকরা যারা এই রাজ্যে কাজ না পেয়ে ভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছেন, কিন্তু বাংলা ভাষা বলার জন্য তাদের অত্যাচারিত হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। আবার সেই কেন্দ্রীয় সরকারের যে বিজেপি দল তারাই আবার এই বাংলায় ভোট চাইতে আসছে।’

    এর আগে এই বিধানসভা থেকে বামেদের হয়ে লড়েছেন ফুয়াদ হালিম, সায়রা শাহ হালিমের মতো ব্যক্তিত্বরা। আফরিন জানালেন, ‘আমাদের গুরুজন এবং বয়োজ্যেষ্ঠ তাঁদের কাছ থেকে আমি পরামর্শ নেব। যাঁরা আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে আসছেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে আলোচনা করে লড়াইতে নামব। এই লড়াইটা লড়া বাংলাকে বাঁচানোর লড়াই। জনগণের স্বার্থে জনগণের জন্য বামপন্থীরা যে লড়াইটা লড়ছে সেই লড়াইয়ের আমিও একজন কর্মী।’
  • Link to this news (আজকাল)