• ‘আমি পার্টিম্যান...’ বহরমপুরে প্রার্থী তিনিই, জানিয়ে দিলেন অধীর
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • জল্পনা ছিল। বেশ কিছু দিন ধরে এলাকায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল। আর রাখঢাক না করে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিলো। কিন্তু বুধবার কোনও রকম রাখঢাক না রেখে বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তিনি যে প্রার্থী হচ্ছেন, সে কথা জানিয়ে দিলেন অধীর চৌধুরী।

    তিনি বলেন, ‘আমার দল আমাকে ভোটে দাঁড়াতে বলছে তাই আমি ভোটে দাঁড়াচ্ছি। আমি পার্টিম্যান। আমি সাংসদ হিসেবে বহরমপুর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন করেছি। আমি তো বাইরের কেউ ছিলাম না। এত দিন সাংসদ হিসেবে ভোটে লড়েছি। এখন বিধায়ক হিসেবে ভোটে লড়তে পারি। কারণ এমনটাই আমার দল চাইছে।’

    এদিকে শুক্রবার কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে। তার আগে নিজেই প্রার্থী হওয়ার কথা জানালেন অধীর চৌধুরী।

    দিন সাতেক আগে বহরমপুরের গোরাবাজারের শহীদ সূর্য সেন রোডের ‘চৌধুরী ভিলা’তে ঢুকেছিলেন অধীর চৌধুরী। এই বাড়িতে তিনি ‘দরবার’ করতেন। সেখানে সাধারণ বাসিন্দাদের যাবতীয় অভাব-অভিযোগ শুনতেন। কিন্তু গোরাবাজারের বাড়ি ছেড়ে কাশিমবাজার এলাকার বাড়িতে চলে যাওয়ার পরে সেই ‘দরবার’ বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ইন্দ্রপতন ঘটেছিল। অধীর চৌধুরী হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে। ঘরের ছেলে ফের প্রার্থী হয়ে জিতুন, এমনটাই নাকি দাবি ছিল স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে। তাঁর কাছে যে কেউ সহজেই পৌঁছতে পারেন, এমন দাবিও শোনা যায়। এই বিষয়ে প্রশ্ন করতেই অধীর বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যদি চান, সেক্ষেত্রে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করব। মানুষ চাইছে বলে কেউ ভোটে দাঁড়াচ্ছে, এমনটা সাধারণত হয় না। এটা আমার রাজনৈতিক জীবনে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার মতো।’

    ১৯৯৬ থেকে ২০২৬--মাঝে ভাগীরথী দিয়ে বয়ে গিয়েছে ৩০ বছর। নবগ্রাম বিধানসভা ভোটের পরে ফের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হতে চলেছেন অধীর। মাঝে দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন অধীর। বহরমপুরের টানা পাঁচ বারের সাংসদ অধীর চৌধুরী সামলেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতার দায়িত্বও। ভোটের ময়দানে এ বার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সুব্রত মৈত্র ও তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়।

    তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সাংসদ হিসেবে পরাজিত হওয়ার পরে তিনি ঠিক-ই করেছিলেন বিধানসভা ভোটে লড়বেন। সেটা আমরা জানতাম। ফলে সেই মতো নিজেদের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা জিতবো বলে। বহরমপুরে মূল লড়াই হবে বিজেপির সঙ্গে। অধীরবাবুর অস্তিত্ব বজায় রাখার লড়াই। এ বারের ভোটে তৃণমূল জয়ী হবে।’

    বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র বলেন, ‘তিনি পাঁচ বারের সাংসদ, পিএসসি চেয়ারম্যান, রেলমন্ত্রী, কিন্তু মানুষ তাঁর কাছে পেয়েছে কী? রাজ্যে এ বার বিজেপি আসবে। তাহলে উনি যাবেন কোথায়! মানুষ কেন তাঁকে ভোট দেবে?’

  • Link to this news (এই সময়)