আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) প্রার্থী বদলানোর জন্য নাকি বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের (BJP Workers) কাছে ৭২ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন জেলা নেতৃত্ব। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রার্থী বদল হয়নি। এই অভিযোগেই বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে জেলা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে লাগাতার ধর্নায় বসলেন কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে পরিতোষ দাসকে (Paritosh Das) প্রার্থী করা হয়েছে আলিপুরদুয়ারে। অবিলম্বে অন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ সোমবারই আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেয় বিজেপি। আলিপুরদুয়ার থেকে প্রার্থী করা হয় পরিতোষ দাসকে। তার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। শুরু হয় বিক্ষোভ। রাতেই দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র, চেয়ার-টেবিল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। এখানেই শেষ নয়, গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মিঠু দাসকে কার্যালয়ে তালাবন্দিও করে রাখেন তাঁরা। ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়।
বিক্ষোভের হাত থেকে রেহাই পাননি পরিতোষও। দুর্গাবাড়ি থেকে পুজো দিয়ে ফেরার সময়ে তাঁর পথ আটকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই আছড়ে পড়ছে বিক্ষোভের ঢেউ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিজেপির একদল নেতা টাকার বিনিময়ে পরিতোষকে প্রার্থী করেছে। হুঁশিয়ারির সুরে তাঁরা বলেন, ‘প্রার্থী না বদলালে ফল ভুগতে হবে।’
জেলা বিজেপি সূত্রে খবর, এর পরেই নাকি বিক্ষোভকারীদের কাছে ৭২ ঘণ্টা সময় চান আলিপুরদুয়ারের বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু সেই সময়সীমাও কেটে গিয়েছে। এর পরেই এ দিন দুপুর থেকে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে ধর্নায় বসেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, এখনও পর্যন্ত প্রচারই শুরু করতে পারেনি পরিতোষ। দলীয় সাংসদ মনোজ টিগ্গা, ও রাজ্য সহসভাপতি তথা ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় কার্যত কোণঠাসা জেলা বিজেপি।
এ দিন বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিক্ষোভকারী বিজেপি নেতা রাতুল ঘোষ বলেন, ‘পরিতোষ দাসকে মানছি না। তাতে যদি দলবিরোধী কাজের জন্য আমাদের বহিষ্কার করা হয়, তাতেও কোনও আপত্তি নেই। আন্দোলন চলবে।’ তবে এই বিক্ষোভকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দলের রাজ্য সহসভাপতি দীপক বর্মন। তাঁর কথায়, ‘কয়েক দিন সময় দিলেই মিটে যাবে। চিন্তার কিছু নেই।’ আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার কথায়, ‘অনভিপ্রেত ঘটনা। দলের সিদ্ধান্ত সবারই মানা উচিত।’