• চুক্তি অনুযায়ী মেলেনি টাকা, ভোটের মুখে তৃণমূলের পার্টি অফিসে তালা বাড়ির মালিকের, বীরভূমে চাঞ্চল্য
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • ভোট ঘোষণা (West Bengal Election 2026) হয়ে গিয়েছে। কোমর বেঁধে প্রচারে নেমে পড়েছে তৃণমূল (TMC), বিজেপি (BJP)-সহ রাজনৈতিক দলগুলি। এর মধ্যেই চুক্তি মোতাবেক টাকা না দেওয়ার অভিযোগে শাসক দলের পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিলেন বাড়ির মালিক। বৃহস্পতিবার বীরভূমের (Birbhum) মহম্মদ বাজারের রামপুর গ্রামের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। যদিও টাকা না দিতে পারায় তারাই পার্টি অফিসে তালা ঝোলাতে বলেছিল বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

    সিউড়ির মুরালপুরের বড় রাস্তার বাঁ দিকে একটি একতলা ঘর রয়েছে। এর মালিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গঙ্গাধর মণ্ডল। এই ঘরে রোগী দেখতেন তিনি। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘরটি বিক্রির জন্য আড়াই লক্ষ টাকায় তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। সেই মতো ঘর ছেড়ে দেন গঙ্গাধর। তার দখল নেয় তৃণমূল। ঘরের সামনে বড় বড় করে লিখে দেওয়া হয় ‘রামপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়’। নেতা-কর্মীরা কাজ শুরু করেন।

    তার পরে প্রায় ২০ মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূল না দিয়েছে বাড়ি কেনার টাকা, না দিয়েছে ভাড়া। এর পরেই এ দিন সকালে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন গঙ্গাধর। তবে তৃণমূলের দাবি, টাকা দিতে না পায়ায়, তাঁরাই পার্টি অফিসে তালা দিতে বলেছিলেন গঙ্গাধরকে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কালীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা টাকা দিতে পারিনি। তাই সম্মান রক্ষার্থে নিজেরাই তালা ঝুলিয়ে দিতে বলেছিলাম। যতদিন না টাকা দিতে পারছি, ততদিন এটা তালাবন্ধ অবস্থায় থাকবে।’

    রামপুর পঞ্চায়েত এখন বিজেপির দখলে। এই নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছে পদ্মশিবির। তাদের দাবি, টাকা না দিয়ে জোর করে সম্পত্তির দখল নেওয়াই শাসক দলের অভ্যাস। শুধু রামপুরে নয়, বাংলার অনেক গ্রামেই তৃণমূল এই ধরনের কাজ করে চলেছে দাবি করেছেন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সহসভাপতি কৃষ্ণকান্ত সাহা। ভোটের মুখে এভাবে পার্টি অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় জনমানসে প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

  • Link to this news (এই সময়)