• প্রার্থী অপছন্দ, মালবাজারে পার্টি অফিস ভাঙচুর বিজেপি কর্মীদের; অগ্নিসংযোগও
    আজ তক | ২০ মার্চ ২০২৬
  • Malbazar Bjp Party Office Vandalism: ভোটের দামামা বাজার আগেই ডুয়ার্সের শান্ত জনপদ মালবাজারে গেরুয়া শিবিরের অন্দরের কোন্দল আক্ষরিক অর্থেই আছড়ে পড়ল রাজপথে। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় শুক্রা মুণ্ডার নাম ঘোষণা হতেই বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মাল শহর।

    দীর্ঘদিনের লড়াই করা ভূমিপুত্র নেতাদের উপেক্ষা করে ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে প্রার্থী চাপানোর অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বিজেপি নেতা ও কর্মীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, ক্ষুব্ধ কর্মীরা খোদ গুরজং ঝোড়া মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালালেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষে বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে আসরে নামতে হয়েছে।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা সামনে আসতেই মাল শহরের ওই দলীয় কার্যালয়ের লোহার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন কয়েকশো বিক্ষুব্ধ কর্মী। তাঁদের রোষের মুখে পড়ে কার্যালয়ের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে চেয়ার-টেবিল, কিছুই অক্ষত থাকেনি। দেওয়ালে থাকা মোদি-শাহের পোস্টার ও দলীয় ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলে জাতীয় সড়কের ধারে স্তূপ করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা।

    বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা পিলাতুস ওরাওঁ এবং অনিল ওরাওঁদের সাফ কথা, মাল বিধানসভায় যোগ্য ও লড়াই করা ভূমিপুত্র নেতা থাকা সত্ত্বেও কেন ওপর থেকে অন্য প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হলো? তাঁদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে এই প্রার্থী বদল না করলে দলের নিচুতলার কর্মীরা কোনওমতেই নির্বাচনি প্রচারে নামবেন না।

    খবর পেয়েই মালবাজারের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) সুদীপ্ত সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি নবীন সাহা এবং জেলা কমিটির সদস্য মঙ্গল ওরাওঁ পৌঁছালেও কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলিপুরদুয়ারের পর এবার মালবাজারে এই বিদ্রোহ উত্তরবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনি প্রস্তুতিতে বড়সড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াল। আদি বনাম নব্যের এই লড়াই ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

     
  • Link to this news (আজ তক)