• বাবার মতো অত 'ঠোঁটকাটা' নন, তবুও ভোটের প্রচারে নজর কাড়ছেন চিন্টু
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • প্রদীপ চক্রবর্তী, উত্তরপাড়া

    সাংসদ ভবন থেকে আদালত কক্ষ-সর্বত্রই 'ঠোঁটকাটা' হিসেবে পরিচিত শ্রীরামপুরের ডাকাবুকো সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছেলে হয়েও শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ অন্য ধাতুর মানুষ। তিনি বরাবরই মিতভাষী। কম কথা বলেন। লোকের সঙ্গে মিষ্টি ব্যবহার করেন। কখনও বাড়তি কথা বলেন না। রাজনীতি করলেও বাবার মতো কোনও দিন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েননি। তবে বাবার পথ অনুসরণ করে তিনিও আইনজীবীর পেশায় নাম লিখিয়েছেন। কম বয়সে আইনি পেশায় ইতিমধ্যেই ভালোই নাম কুড়িয়েছেন। এ বারের বিধানসভা ভোটে তাঁকেই উত্তরপাড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

    ভালো নাম শীর্ষণ্য হলেও পাড়া-প্রতিবেশী এবং বন্ধুরা সবাই তাঁকে চিন্টু নামেই চেনেন। রাজনৈতিক পরিবারে বড় হয়ে ওঠা চিন্টু জানাচ্ছেন, বাবা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই তিনি রাজনীতির প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর আদর্শ। থাকেন কলকাতায় কালীঘাটের নিজস্ব বাড়িতে। পেশাগত ব্যস্ততা থাকলেও দিনের অনেকটা সময় কাটে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে। ২০০৯ সালে ছাত্রাবস্থায় বাবার হয়ে শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রে অল্পবিস্তর প্রচার করেছিলেন। যোগমায়া কলেজে ছাত্র রাজনীতি করেছেন। সিপিএম জমানায় কলেজের ছাত্র ইউনিয়নের সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তারই মধ্যে আইনে মাস্টার ডিগ্রি করেছেন। তার পর থেকে কখনও লোকসভায়, কখনও বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছেন।

    শীর্ষণ্যের কথায়, 'ছোট থেকেই রাজনৈতিক পরিসরে বড় হয়েছি। বাবাকে দেখেছি। দলের শীর্ষ নেতা-কর্মীদের আনাগোনা দেখেছি। ছোট থেকেই রাজনীতির প্রতি একটা টান অনুভব করেছি। সাত থেকে আটটা ভোটে অংশ নিয়েছি। প্রার্থীদের হয়ে ভোট চেয়েছি। কখনও মানুষ আমাদের নিরাশ করেননি।' এত দিন অন্যের হয়ে ভোট চাওয়া, আর এ বারে নিজে প্রার্থী হয়ে ভোট চাইতে যাওয়া, তাতে কি বাড়তি মানসিক চাপ আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে হাসতে হাসতে শীর্ষণ্য বলেন, 'আমরা উন্নয়নের স্বার্থে ভোট চাইব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শতাধিক জনমুখী প্রকল্পের সূচনা করে মানুষকে পরিষেবা দিয়েছেন। সেই দাবি নিয়েই মানুষের কাছে যাব। আমাদের বিশ্বাস, আমরা রেকর্ড ভোটেই জয়ী হব, বিরোধীরা দুইয়ে-তিনে থাকবে।'

    এ বার শ্রীরামপুর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছে ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী নবনীতা চক্রবর্তীকে। বিধানসভার প্রার্থী হিসেবে এ বার তাঁর হাতেখড়ি হলেও, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত লোকসভা নির্বাচনে দীপ্সিতা ধরের হয়ে লাগাতার প্রচার করেছেন। এ বার তাঁকেই ভোটের ময়দানে নামিয়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করার রণকৌশল নিয়েছে বামেরা।

  • Link to this news (এই সময়)