• ‘লিড না দিলে সব সাহায্য বন্ধ’, ভোটের মুখে হুঁশিয়ারি অনুব্রতর, তীব্র আক্রমণ বিজেপিকে
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • নির্বাচনের দিনক্ষণ (West Bengal Election 2026) ঘোষণার পরেই স্বমেজাজে ধরা দিলেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। গরু পাচার মামলায় জেলমুক্তির পরে এটাই তাঁর প্রথম বিধানসভা নির্বাচন। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার বীরভূমের (Birbhum) ২২ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের (TMC) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা বসেছিলেন তিনি। সেখানেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, তাঁর লিড চাই। অনুব্রতর কথায়, ‘লিড না দিতে পারলে কোনও সাহায্য মিলবে না। এটা যেন মাথায় থাকে।’ ওয়ার্ডে ২৫ জনের একটি টিম তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

    বোলপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে অনুব্রতর বাড়ি। কিন্তু গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটে এই ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এই নিয়ে মাঝে মধ্যেই আক্ষেপ করেন অনুব্রত। এ দিন বোলপুরের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কাছে প্রচারের রূপরেখা ছকে দেন তিনি। সেখানেই অনুব্রত বলেন, ‘যদি কোনও অন্যায় করে থাকি, ক্ষমা করে দিন। ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে রাগ করবেন না।’

    এর পরেই কিছুটা সুর চড়ান বীরভূমে তৃণমূলের কোর কমিটির কনভেনর অনুব্রত। স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনি যদি আমাকে না দেখেন, আমি কেন দেখব? আপনি যদি আমার পাশে না থাকেন, আমি কেন আপনার পাশে থাকব?’ ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ১৫ জন ছেলে এবং ১০ জন মেয়েকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। অনুব্রতর কথায়, ‘লিড চাই। না হলে ফিরেও তাকাব না। ওই ডিএম-কে (জেলাশাসক) ফোন করো, ওকে ফোন করো, সব বন্ধ করে দেব।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক প্রকল্পের কথাও এ দিন তুলে ধরেন অনুব্রত। তিনি বলেন, ‘বাংলায় এমন অনেক প্রকল্প হয়েছে যা রাজস্থানে, উত্তর প্রদেশে হয়নি। ৩৪ বছর অন্ধকারে ছিল বাংলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে আলোতে এনেছেন। আর ভুল করবেন না।’ NRC-র ফর্ম চলে এসেছে বলেও দাবি করেন অনুব্রত। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার এনআরসি-র জন্য ডাক পড়বে।’ পাল্টা অনুব্রতকে ‘অশিক্ষিত’ বলে তোপ দাগেন স্থানীয় বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, ‘তাঁর ওয়ার্ডে রাষ্ট্রবাদী মানুষ বাস করেন। তাঁরা কখনওই তৃণমূলকে ভোট দেবেন না।’

    উল্লেখ্য গরু পাচার মামলায় ২০২২-এর ১১ অগস্ট বোলপুরের বাড়ি থেকে অনুব্রতকে গ্রেপ্তার করেছিল CBI। প্রথমে আসানসোল সংশোধনাগারে রাখা হয় তাঁকে। পরে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির তিহাড় জেলে। ২০২৩-এর ২১ মার্চ থেকে সেখানেই বন্দি ছিলেন তিনি। ওই বছরের নভেম্বরে গরু পাচার মামলাতে ED-ও গ্রেপ্তার করে তাঁকে। একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে গিয়েছিল আদালতে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে জামিন পান অনুব্রত। তবে সেই মামলা এখনও চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)