• দোষী যন্ত্র নয়, সতর্ক থাকতে হবে যন্ত্রীকে
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

    মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাব- এই এ্যহস্পর্শে দিশাহারা পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্কুল পড়ুয়া। সঠিক দিশা পেতে পাঁশকুড়ার পূর্ব চিল্কা লালচাঁদ হাই স্কুলে গত ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো বিতর্কসভা। বিষয় ছিল- 'সভার মতে মোবাইল ফোন বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মবিকাশের প্রধান অন্তরায়'। আয়োজনে ছিল 'এই সময়' সংবাদপত্র। পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতের যুক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে পড়ুয়াদের ভাবনা।

    দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছ'জন পড়ুয়া পক্ষে ও বিপক্ষে অংশ নিয়েছিল। দ্বাদশ শ্রেণির সুদীপ অধিকারী সভার মতের পক্ষে বলে, 'ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করছে।' বিপক্ষের বক্তা দ্বাদশ শ্রেণির সৌম্যদীপ বর্মনের কথায়, 'করোনাকাল আমাদের শিখিয়েছে মোবাইল ফোন আত্মবিকাশের অন্তরায় নয়। বরং ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ষাকবচ। স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল, কিন্তু শিক্ষা বন্ধ হয়নি। মোবাইল ফোন না থাকলে পুরো একটা প্রজন্ম পিছিয়ে যেত।'

    সৌম্যদীপ আরও বলে, 'এখন ডিজিটাল যুগ। ভবিষ্যতের চাকরি, স্কিল, যোগাযোগ সবই প্রযুক্তি নির্ভর।' সভার শেষ দিকে পক্ষে বলে দশম শ্রেণির মিলি ভক্তা ও বিপক্ষে দ্বাদশ শ্রেণির প্রলয় ঘড়া। মিলি বলে, 'মোবাইল ফোনের যথেচ্ছ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অবিরাম নোটিফিকেশন, সোশ্যাল মিডিয়ার হাতছানি এবং গেমসের নেশা শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ করছে।' প্রলয়ের যুক্তি, 'কোনও যন্ত্রই নিজে থেকে খারাপ নয়। তেমনই মোবাইল ফোনও শিক্ষার বা শিক্ষার্থীদের আত্মবিকাশের অন্তরায় নয়। এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের' সঞ্চালক শিক্ষক ব্রজদুলাল ঘোড়াই ঘোষণা করেন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে সভার মতের বিপক্ষের বক্তা দ্বাদশ শ্রেণির প্রলয় ঘড়া, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে সভার পক্ষের বক্তা দশম শ্রেণির মিলি ভক্তা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে সভার বিপক্ষের বক্তা দ্বাদশ শ্রেণির সৌম্যদীপ বর্মন।

    প্রধান শিক্ষক গৌতমকুমার দাস সমাপ্তি ভাষণে বলেন, 'আজকের সভা থেকে সিদ্ধান্ত উঠে এলো, অপব্যবহার করলে মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের আত্মবিকাশের অন্তরায়। আর সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে তা উপযোগী।'

  • Link to this news (এই সময়)