• টিকিট না পেয়ে প্রচারে মন বিদায়ী কেশিয়াড়ির বিধায়কের
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: টানা দু'বারের বিধায়ক। তাঁকে ঘিরে নেই তেমন বির্তকও। আপাত ভাবে তাই বিধানসভায় নিজের প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনেকটাই নিঃসংশয় ছিলেন। যদিও জানতেন, দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তবু আশা করেছিলেন দলের নেত্রীর কাছে তাঁর অভিজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা নিশ্চয়ই গুরুত্ব পাবে। হতাশই হয়েছেন তিনি। কেশিয়াড়ির প্রার্থী হিসাবে তালিকায় ঠাঁই হয়নি বিদায়ী বিধায়ক পরেশ মুর্মুর।

    তবে এর জন্য কোনও ক্ষোভ-বিক্ষোভের পথে হাঁটেননি। যা প্রাথী তালিকা ঘোষণার পরে তৃণমূলের একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে। টিকিট না পাওয়া দাঁতনের বিদায়ী বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান, নারায়ণগড়ের সূর্যকান্ত অট্টরা বলছেন, 'বিশ্রাম নিচ্ছি।' প্রচারে নেই কেন? তাঁদের জবাব, 'প্রচারে তো কেউ ডাকেনি। তা ছাড়া টানা পাঁচ বছর ধরে মানুষের সঙ্গে থেকেছি। তৈরি মাঠে প্রার্থীদের কোনও সমস্যা হবে না।'

    সেখানে ব্যতিক্রম পরেশ। দল টিকিট দেয়নি। তাতে কী? দলের হয়ে দেওয়াল লিখন থেকে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। তাই বলে পরেশের মনে কোনও অভিমান জমে নেই! তাঁর আক্ষেপ, 'দল যদি আমাকে আগে জানিয়ে দিত, তাহলে হয়তো এতটা কষ্ট পেতাম না। কারণ, আমি তো বিধায়ক হওয়ার জন্য জন্মাইনি। মেয়াদ শেষে এক দিন না এক দিন সকলকেই ছাড়তে হবে। তাই মেনে নিয়েছি। দলের কর্মী হিসেবে প্রচারও করছি।' তবে কেশিয়াড়ি বিধানসভা এলাকায় নয়, পরেশ প্রচারে নেমেছেন খড়গপুর গ্রামীণ বিধানসভার হরিয়াতাড়া এলাকায়। কারণ, তিনি হরিয়াতাড়া অঞ্চলের গালুকসাই গ্রামের বাসিন্দা। যে এলাকার তৃণমূল বিধায়ক দীনেন রায় এ বারও টিকিট পেয়েছেন।

    দলের হয়েই যখন প্রচারে নেমেছেন, তখন কেশিয়াড়িতে নয় কেন? পরেশের কথায়, 'দল আমাকে তেমন নির্দেশ দেয়নি। তাই নিজে থেকে ওখানে কাজ করতে গেলে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু নিজের এলাকায় প্রচারে থাকলে সমস্যা নেই।' তৃণমূল প্রার্থী দীনেন রায় বলেন, 'আমিও শুনেছি পরেশ এলাকায় প্রচার করছে। প্রকৃত তৃণমূল কর্মীদের তো এটাই কাজ। পরেশের ভূমিকায় আমি খুব খুশি।' ২০১৬-য় প্রথম বিধায়ক হন পরেশ। তারপর বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দেন। ছেলে ও মেয়ে বেকার। স্ত্রী আরতি খড়গপুর গ্রামীণ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। পরেশ বলেন, 'ক'দিন আগেও বিধায়কের মাইনের টাকা খরচ করে দলীয় কর্মসূচি করেছি। এখন তো চাকরিও নেই। শুধু বিধায়ক পেনশনের টাকায় কি সংসার চলবে? দল আগে জানালে সব টাকা খরচ করতাম না।'

    নিজের পুরোনো কেন্দ্রে প্রচারে না থাকলেও তাঁর দাবি, 'কেশিয়াড়ি নিয়ে দলের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। বিনয়ী শিক্ষক নেতা টিকিট পেয়েছেন। আমি চাই, উনি মার্জিন বাড়িয়ে বেশি ভোটে জিতুন।'

  • Link to this news (এই সময়)