এই সময়: রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি আগেই গিয়েছিল। এ বার বিজেপি নীরজ জিম্বাকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না-করায় জিএনএলএফ দলটার অস্তিত্বই কার্যত মুছে গেল। বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের যে তালিকা বৃহস্পতিবার বিজেপি প্রকাশ করেছে সেখানে দার্জিলিং কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে নমন রাইকে। ২০১৯ থেকে এই কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক পদে ছিলেন জিএনএলএফের সেক্রেটারি জেনারেল নীরজ জিম্বা।
কেন নীরজকে বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী দেওয়া হলো, তার কোনও ব্যাখ্যা বিজেপির তরফে দেওয়া হয়নি। ফোন করা হলে নীরজও বিষয়টি এড়িয়ে যান। নমন বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার যুব নেতা। তবে মোর্চা নয়, বিজেপির প্রতীকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গিয়েছে। কার্শিয়াং কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে দলের যুব নেতা সোনম লামাকে। তিনি কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা।
অন্য দিকে, খেলার মাঠের এক তারকা এ বার নামতে চলেছেন ভোটের লড়াইয়ে। কালিম্পংয়ে বিজেপি প্রার্থী করেছে ভারতীয় দলের প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় ভরত ছেত্রীকে। তিনি অলিম্পিক্সে দেশের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন। খেলাধুলো ছাড়ার পরে ভরত এখন কালিম্পংয়েই একটি হকি স্টেডিয়াম তৈরি করে এলাকার নতুন ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দেন। বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকায় কোচবিহারে মাথাভাঙা আসন থেকে টিকিট পেলেন নিশীথ প্রামাণিক। এখানে বিজেপির বিধায়ক সুশীলচন্দ্র বর্মনকে টিকিট দেওয়া হলো না। গত লোকসভা নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন নিশীথ। মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে গতবারে বিজেপির পরাজিত প্রার্থী দধিরাম রায়কেই ফের লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে কোচবিহারের নাটাবাড়ি, কোচবিহার দক্ষিণ এবং সিতাই কেন্দ্রে এখনও প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। এ নিয়ে জল্পনা চলছে দলীয় কর্মীদের মধ্যে। এ দিন নাম ঘোষণার পরেই কোচবিহারের জেলা কার্যালয়ে আসেন নিশীথ। তিনি বলেন, 'আমাকে প্রার্থী করায় দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মাথাভাঙা আমার নতুন জায়গা নয়। এখানকার অলিগলি সবই আমার চেনা।' টিকিট না পাওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি বিদায়ী বিধায়ক। এ দিকে জলপাইগুড়িতে অনন্তদেব অধিকারীর নাম ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। চলে মিষ্টিমুখ।