এই সময়, ব্যারাকপুর: বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বেশি চমক ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। সোমবার বিজেপির প্রথম তালিকায় ব্যারাকপুর লোকসভার বেশ কয়েকটি বিধানসভায় প্রার্থীর নাম ছিল না। মঙ্গলবার তৃণমূল পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতেই চিন্তা বাড়তে থাকে বিজেপি শিবিরে। বৃহস্পতিবার পদ্ম শিবিরের ১১৩ জনের নাম জানা যেতেই চমকের সঙ্গে বিতর্কও বেড়েছে।
ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে নোয়াপাড়ায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁকে নোয়াপাড়ায় প্রার্থী করায় এই কেন্দ্রের একদা কাউন্সিলার ও তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু খুনের বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দেবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জগদ্দল কেন্দ্রের প্রার্থী রাজেশ কুমারের নামও বড় চমক। কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার আইপিএস রাজেশ কুমার এ বার তৃণমূল প্রার্থী তথা গতবারের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে বিজেপির টিকিটে লড়বেন। রাজেশ কুমার গত ৩১ জানুয়ারি অবসর নিয়েছেন। কেন বিজেপি'তে যোগ দিলেন, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মানুষের জন্য কাজ করে বিজেপি। তাই বিজেপিতে যোগ দিয়ে মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই।'
বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস আগে তৃণমূল করতেন। ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সাংসদ হতেই তিনি পদ্মশিবিরে যোগ দেন। মাঝখানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তৃণমূল কর্মী রাজু কুড়মি খুনের অভিযোগেও তাঁর নাম ছিল। এ বার তাঁকেই বীজপুরের প্রার্থী করে স্থানীয় অঙ্ককে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। যদিও তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সুবোধ অধিকারী বলেন, 'বীজপুরে আমাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম। বিজেপিকে প্রতিপক্ষই মনে করছি না।'
ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচিকে। তাঁর লড়াই তৃণমূলের তারকা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে। বৃহস্পতিবার তাঁর নাম ঘোষণা পর কৌস্তুভবলেন, 'তোলাবাজদের হাত থেকে ব্যারাকপুরকে মুক্ত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।' আর রাজ বলছেন, 'আমি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অর্জুন সিংকে চেয়েছিলাম। কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হবে না।' কামারহাটির বিজেপি প্রার্থী অরূপ চৌধুরী ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। পেশায় ব্যবসায়ী অরূপ বিজেপি কিষাণ মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাঁকে প্রার্থী করায় কামারহাটির বিজেপি নেতৃত্ব যে খুব একটা খুশি নন তা তাঁরা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
খড়দহের বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চক্রবর্তী অধ্যাপক। আরএসএসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। বিজেপির তালিকা প্রকাশ হতেই ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক বলেন, 'আমি অর্জুনকে হারিয়েছি। ব্যারাকপুরে সাতে সাত করবে তৃণমূল।'