• শোলার বাসন্তী মূর্তি কুমোরটুলি থেকে বিমানে চেপে গেল নিউ জার্সি-ব্রিটেনে
    বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার প্রথম শোলার দু’টি বাসন্তী প্রতিমা পাড়ি দিয়েছে কুমোরটুলি থেকে বিদেশে। বিমানে করে একটি প্রতিমা গিয়েছে নিউ জার্সি। অন্যটি ব্রিটেনে। বৃহস্পতিবার কুমোরটুলি স্ট্রিটে শোলা শিল্পী শম্ভুনাথ মালাকার এই খবর জানান। এই শিল্পীর শোলার নানা প্রতিমা নানা সময়ে গিয়েছে বিভিন্ন দেশে। কিন্তু এই প্রথম দু’টি বাসন্তী প্রতিমা গেল বিদেশে। কথা প্রসঙ্গে এদিন তিনি জানান, মাস ছ’য়েক আগে এই প্রতিমা দু’টির বরাত মিলেছিল। তৈরি করতে অনেকটা সময় লেগেছে। উদোক্তারা আগাম ছবি পাঠিয়েছিল প্রতিমার। আমি এবং আমার ছেলে মিলে প্রতিমা তৈরি করেছি। ছবি অনুযায়ী যতটা নিখুঁত করা যায়, তার চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কুমোরটুলিতে ঘুরতে আসা বহু মানুষ এই প্রতিমা তৈরির সময় দাঁড়িয়ে দেখেছেন। আর্ট কলেজের কিছু ছাত্র‑ছাত্রীও এসেছিলেন।

    শুধুমাত্র শোলার নয়, এবার পটুয়াপাড়া থেকে চারটি ফাইবারের বাসন্তী প্রতিমাও বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। তার মধ্যে ওড়িশায় দু’টি, মুম্বইয়ে একটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে একটি। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী রাজা পাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এবার তিনি একটি ফাইবার ও দু’টি ছোট একচালার বাসন্তী প্রতিমার বরাত পেয়েছিলেন। ফাইবারের মূর্তিটি তৈরি করতে বেশি সময় লেগেছিল। তিনজন মিলে তৈরি করা হয়।’ কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সংগঠনের অন্যতম কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘কুমোরটুলির নাম জগৎবিখ্যাত। আমরা আনন্দিত এই কারণে যে, আমাদের শিল্পী‑ভাস্করের তৈরি মূর্তি আজ দেশ‑বিদেশের সর্বত্র পাড়ি দিয়ে থাকে। এতে আমরা সম্মানিত। এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও তাঁদের পরিবার‑পরিজন আর্থিকভাবে লাভবান হন।’ সংগঠনের কর্মকর্তাদের একাংশের কথায়, ‘আগে বাসন্তী প্রতিমার সে অর্থে খুব একটা বিদেশে পাড়ি দেওয়ার নজির নেই। এখন সেই রেকর্ড ভাঙছে। যেটা আমাদের কাছে সত্যিই গর্বের। কুমোরটুলি সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাইবারের চারটি বাসন্তী প্রতিমা পৃথকভাবে কাঠের বাক্সে পাঠানো হয়েছে। মূর্তি যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য চারপাশে বিচালি ও থার্মোকল আটকে দেওয়া হয়। কুমোরটুলিতে দীর্ঘদিন ধরে আসছেন সুকুমার দাশগুপ্ত। গড়িয়ার বাসিন্দা ৫৫ বছরের ওই ব্যক্তি বলেন, ‘কুমোরটুলি স্ট্রিটে যে শিল্পীর ঘরে একটি ফাইবারের বাসন্তী প্রতিমা তৈরি হচ্ছিল তা সত্যিই জীবন্ত লাগছিল। প্রতিমায় নানা রঙের কাজ ছিল। সত্যিই দৃষ্টিনন্দন।’ উত্তর কলকাতার এপিসি রোডের বাসিন্দা যামিনীরঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘যেহেতু উত্তর কলকাতায় থাকি, তাই মাঝে মধ্যে দেবদেবীর মূর্তি তৈরি দেখতে আসি। এও এক দেবীদর্শন বলা যেতে পারে।’
  • Link to this news (বর্তমান)