• সিলিন্ডার-সংকট, জাকারিয়া স্ট্রিটে দাম বেড়েছে হালিম থেকে হালুয়ার
    বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ সময় জাকারিয়া স্ট্রিট আলোয় আলোয় ঝলমলে। খাদ্যরসিক মানুষ যেন মিছিল করে গলিটিতে প্রবেশ করেন। ফি বছর ভিড়। এবছর একটু তাল কেটেছে উৎসবের। চিকেন, মটন কিংবা হালিম খেতে বেগ পেতে হচ্ছে সবাইকে। গত বছরের তুলনায় বেড়েছে দাম। বিক্রেতাদের বক্তব্য, ‘দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় আছে কি? গ্যাস তো পাওয়া যাচ্ছে না। আকাশছোঁয়া দামে কিনতে হচ্ছে। দাম না বাড়িয়ে কি করে চলবে?’ ফলে গ্যাস না পেয়ে জাকারিয়ায় অনেক দোকানদার ফিরে গিয়েছেন কাঠ-কয়লাতে।

    চিকেন আর মটন হালিম নিয়ে বসেছেন ফাইজান। দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এক ক্রেতা প্রশ্ন করলেন, ‘দাম অনেকটা বেশি না?’ তারপর পরিমাণ দেখে বললেন, ‘একটু কম দিচ্ছেন?’ ফাইজান বললেন, ‘কাঠ-কয়লাতে রান্না করছি। খুব পরিশ্রম হচ্ছে। অল্প সময়ে বেশি তৈরিও করা যাচ্ছে না। দাম বাড়ানো আর পরিমাণ কমানো ছাড়া উপায় কি বলুন?’ রমজানের সময় জাকারিয়াতে হু হু বিক্রি হয় হালুয়া। হালুয়া রান্নার নিয়ম হল অনেকক্ষণ ধরে নাড়াচাড়া করে রাঁধতে হয়। সে জন্য গ্যাস ছাড়া দোকানদারদের উপায় নেই। তার সঙ্গে খাওয়া হয় বিশাল আকারের পরোটা। এক বিক্রেতা বললেন, ‘অনেকগুলো সিলিন্ডার কিনে রেখেছি। কালোবাজারে সাড়ে ছ’হাজার টাকা এক একটার দাম নিয়েছে। ফলে ৫০ টাকায় বিক্রি করে পোষাতে পারছি না। পরোটা আর হালুয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়েছে।’ প্রতি বছরই এ সময় জাকারিয়াতে আসেন এক ক্রেতা। তিনি বললেন, ‘হালুয়ার দাম একই আছে। কিন্তু পরিমাণ খুবই কমে গিয়েছে।চিকেনের লেগ পিসের দাম নিয়েছে ৬০ টাকা। বোনলেস চিকেন দেড়শো গ্রামের দাম আড়াইশো টাকা। ভাবা যায়!’ এই খাবার নিয়ে বসেছিলেন মহম্মদ আমিন। গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁকে? একথা জিজ্ঞেস করতেই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘কোথায় গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাবে বলতে পারেন? তাহলে কিনতে যাব। আমরা সিলিন্ডার খুঁজছি। পাচ্ছি না। স্টক শেষ হয়ে আসছে।’

    চড়া দামের কাছে হার মেনে অনেকে শুধু ‘মোহব্বত কা শরবত্’ খেয়ে ইতি টানছেন। কারণ শরবতের উপর গ্যাস সিলিন্ডারের প্রভাব পড়েনি। দাম বাড়েনি। সব ঠিকঠাক হোক তারপর ভূরিভোজ পরে একদিন হবে, বলে শুধু শরবৎ খেয়ে জাকারিয়া ভ্রমণ শেষ করছেন বেশিরভাগ মানুষ।
  • Link to this news (বর্তমান)