‘কমিশনকে দিয়ে অঘোষিত ইমার্জেন্সি’, মমতার তোপ, ‘গায়ের জোরে বিজেপির ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ব্যর্থ করে আমরাই জিতব’
বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোট ঘোষণার পর মাত্র পাঁচদিনে ৫০ জন প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাকে বদলি! সেটাও আবার কোনো কারণ ছাড়াই। নির্বাচন কমিশনের এহেন একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি আঙুল তুললেন বিজেপির দিকেও। তাঁর অভিযোগ, কমিশনকে দিয়ে বাংলায় অঘোষিত ইমার্জেন্সি (জরুরি অবস্থা), অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হচ্ছে। গায়ের জোরে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ করার প্রত্যয়ী ঘোষণাও বৃহস্পতিবার উঠে এসেছে বাংলার অগ্নিকন্যার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন—‘আমরাই জিতব!’
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে আধকিারিকদের বদলি করছে বলেই এদিন অভিযোগ করেছেন মমতা। লিখেছেন, ‘প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক কারণেই রাজ্যের আধিকারিকদের অপসারণ করা হচ্ছে। পাঠানো হচ্ছে রাজ্যে বাইরের। অভূতপূর্ব এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানুষের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে গায়ের জোরে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। বাংলায় যা চলছে তা একপ্রকার অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং রাষ্ট্রপতি শাসন। কমিশনের রাজনীতিকরণ বাংলার মানুষের জীবনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা নিয়ে এসেছে।’
শীর্ষ আধিকারিকদের অপসারণের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের কড়া চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। প্রশ্ন তুলেছেন, আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন এই বদলি? দীর্ঘদিন কর্মরত কর্তা-ব্যক্তিদের বাংলার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ায় রাজ্যে আইন শৃঙ্ঘলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। চিঠিতে আর লিখেছেন, ‘ভিনরাজ্যের আধিকারিকরা বাংলার ভৌগোলিক ও স্ট্র্যাটেজিক বিষয়গুলি সম্পর্কে অবগত নয়। ফলে তাঁদের পক্ষে আইন শৃঙ্খলা, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংক্রান্ত ইস্যু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।’ প্রশাসনিক এই রদবদলের জেরে এসআইআরে ‘বিচারাধীন’দের নামের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেবে বলেও আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর।
নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, মধ্যরাতে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তারপর একে একে বদলি করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি, একাধিক এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে। মমতার অভিযোগ, বেছে বেছে আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলির আধিকারিকদের রাজ্যের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এটা প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। বুধবার রাতেও অপসারিত একাধিক আইপিএস অফিসারকে বাইরে রাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তবে পরে ভুল বুঝতে পেরে শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার সহ পাঁচ জন আইপিএস অফিসারের ক্ষেত্রে এই ‘অর্ডার’ তারা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। আর এই ইস্যুতে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর মন্তব্য, ‘যে সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ থাকার কথা, তাদের পদ্ধতিগত রাজনীতিকরণ সংবিধানে সরাসরি আঘাত।’
তবে কমিশন সহ সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগিয়েও এরাজ্যে বিজেপি দাঁত ফোটাতে পারবে না বলেও প্রত্যয়ী মমতা। সাফ জানিয়েছেন, বাংলা কখনও ভয় পায়নি, পাবেও না। বাংলা লড়বে, প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং বিভাজনমূলক শক্তিকে পরাজিত করবে। বিজেপি-কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার লড়াইকে সমর্থন জানিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘দিল্লি নির্বাচনেই একইভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। আজকে মমতাদিদি গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য লড়ছে। এই লড়াইয়ে আমি তাঁর পাশে আছি।’