একইদিনে রাজ্যের ১০টি জায়গায় বেআইনি কল সেন্টারে ইডির হানা, উদ্ধার ১৫ কোটি নগদ ও বিপুল টাকার গয়না
বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি কলসেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দেড় কোটি টাকা মূল্যের সোনার অলংকার, ১৫ কোটি টাকা নগদ, বিলাসবহুল গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করল ইডি। কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়াসহ দশটি জায়গায় দু’দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে এগুলি উদ্ধার করেছে এজেন্সি। টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে আমেরিকাসহ বিদেশি নাগরিকদের ঠকিয়ে তারা এই টাকা রোজগার করত।
বেআইনি কল সেন্টারের বিরুদ্ধে কলকাতা, বিধাননগর, শিলিগুড়ি এবং বিভিন্ন জেলায় একাধিক কেস রুজু হয়েছে। সেই সংক্রান্ত মামলার মধ্যে একাধিক কেসের নথি স্থানীয় আদালত থেকে সংগ্রহ করে ইডি। তার ভিত্তিতে ইসিআইআর (এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট) করে তদন্ত শুরু করে তারা। তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অফিসাররা জানতে পারেন, গড়িয়ার বোড়াল, সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ, হাওড়ার শিবপুর, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে কল সেন্টারগুলি চলছে। এর পিছনে পুলিশের একাংশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাদের সঙ্গে কল সেন্টারের মালিকদের যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ।
এখান থেকে ফোন যাচ্ছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। টেক সাপোর্ট দেওয়ার নাম করে কল সেন্টারের মালিকরা ঠকাচ্ছে বিদেশের নাগরিকদের। একেকটি কল সেন্টার ঘণ্টায় রোজগার করছে ৩০-৪০ হাজার টাকা। এই তথ্যের ভিত্তিতে দশটি জায়গায় একযোগে ১৬-১৮ মার্চ পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হয়। সেখান গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন একেকটি কলসেন্টারে চার শিফটে কাজ হচ্ছে। একেক শিফটে দেড়শো-দুশো জন কাজ করছে। ডোমেস্টিক কল সেন্টারগুলিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ চলছে। বিদেশে কল করার জন্য সবচেয়ে বেশি ছেলেমেয়ে কাজ করছে রাত ১২ টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত। ডার্কওয়েব থেকে কেনা নম্বর দিয়ে তারা ফোন করছে বিদেশের নাগরিকদের।
কেউ টোপ গিললেই পাঠানো হচ্ছে লিঙ্ক। তাতে কেউ ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের দখল নিয়ে হাওয়া করে দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সবকটি কল সেন্টার থেকেই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার হয়। তার পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা! একইসঙ্গে কল সেন্টারগুলির মালিকদের বাড়িতে হানা দিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না। তার পরিমাণ দেড় কোটি টাকা! একইসঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে লেটেস্ট মডেলের বিলাসবহুল গাড়ি মিলেছে।
কল সেন্টারের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি আধিকারিকরা জেনেছেন, বিদেশিদের প্রতারণা করে পাওয়া টাকা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। সেই টাকা একাধিক অ্যাকাউন্ট ঘোরানোর পর তোলা হতো। এজন্য ব্যবহার করত ভাড়ার অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টের মালিকরা টাকা তুলে কল সেন্টারের মালিকদের দিত। তারপর সেই টাকা হাওলা করে দুবাই পাঠানো হচ্ছে। রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতারণার টাকা খাটছে সেখানে। উদ্ধার হওয়া টাকা প্রতারণা করে আসা বলে কল সেন্টারের মালিকরা তদন্তকারীদের জানিয়েছে। এই টাকার একটা অংশ দিয়ে সোনার গয়না কিনত তারা। এজন্য বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। যারা তাদের নগদ নিয়ে গয়না বিক্রি করত। এই দোকানগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রতারণার টাকা বিদেশে কোন কোন জায়গায় বিনিয়োগ করা রয়েছে, সেটাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।