৩ কোটির ডিজিটাল অ্যারেস্ট কাণ্ড: ভিন রাজ্যে ৫০০টিরও বেশি মিউল অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে প্রতারণার টাকা
বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু কলকাতা-অশোকনগর নয়। কলকাতার অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনায় জল গড়াল ভিন রাজ্য পর্যন্ত। ৩ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় পাঁচশোর বেশি মিউল বা ভাড়া নেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেল লালবাজার। মুম্বই, রাজস্থান, ওড়িশাসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে এই মিউল অ্যাকাউন্ট। সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টে গিয়েছে প্রতারণার টাকা। তবে বেশিরভাগ টাকাই গায়েব করে দিয়েছে অভিযুক্তরা। প্রতারিত ৩ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা ব্লক করতে পেরেছেন লালবাজারের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা।
বুধবার লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দাপ্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছিলেন। কলকাতার অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের ৩ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট ও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে ধৃতদের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ হাজার ১২০টি সিম কার্ড, ১২টি সিম বক্স এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য। বেশকিছু মোবাইল ফোন, হার্ড ড্রাইভও বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। সেগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশের হাতে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত মহম্মদ আমজাদ ও অর্পণ সিকদারের সঙ্গে দেশব্যাপী বিভিন্ন সাইবার প্রতারকদের যোগসূত্র মিলেছে। এদের একটি বড়ো র্যাকেট রয়েছে। ভিন রাজ্যের মানুষদের কমিশনের ভিত্তিতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিত অভিযুক্তরা। প্রতি লেনদেনের ৫ শতাংশ টাকা সেই অ্যাকাউন্টগুলির আসল মালিকদের কমিশন হিসেবে দেওয়া হত।
বিভিন্ন রাজ্য ও তার গুরুত্বপূর্ণ শহর কিংবা গ্রামাঞ্চল থেকে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিকে টার্গেট ভাড়া নিত অভিযুক্তরা। সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টের তথ্য ‘সেভ’ থাকত হার্ড ড্রাইভে। সেই হার্ড ড্রাইভ ঘেঁটে ৫-৬টি ফাইল পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যা থেকে তদন্তকারীরা জেনেছেন, মহারাষ্ট্রে ২৩৩টি মিউল অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই মুম্বই শহরে। ধারাভি এলাকায় প্রায় ৪০ শতাংশ মিউল অ্যাকাউন্ট রয়েছে। পাশাপাশি, রাজস্থানেও দেড়শোর বেশি ভাড়ার অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বাকিগুলি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে। সেই সবকটি মিউল অ্যাকাউন্ট ব্লক করার জন্য টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রকের সঙ্গে যোগযোগ করছে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ। চিহ্নিত অ্যাকাউন্ট ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরগুলি ব্লক করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সাইবার বিভাগ সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, বাজেয়াপ্তক হওয়া সিমবক্স ও রাউটারগুলিকে সাইবার ফরেনসিক শাখার কাছে যায় ‘ময়নাতদন্তের’ জন্য। সেগুলি থেকেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, বিদেশ থেকে আসা কলগুলির লোকেশন গুপ্ত রাখার জন্য সিমবক্স ব্যবহার করা হয়। বিদেশি কলারদের লোকেশন ‘রাউট’ করে দেওয়া হয় সিমবক্সে থাকা দেশীয় সিম কার্ডের মাধ্যমে। সাইবার ফরেন্সিক শাখা এমন দেড় হাজারের বেশি বিদেশি কলের সন্ধান পেয়েছে। যেগুলির লোকেশন গোপন রাখার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের থেকে কমিশন নিত অভিযুক্তরা। ধৃতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তার প্রমাণ মিলেছে। লাওস, ভিয়েতনাম, মালেশিয়া, কম্বোডিয়া থেকে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছেছে সেই কমিশন।