তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে কালীগঞ্জে আসনে প্রার্থী করায় সিপিএমের পলাশি এরিয়া কমিটির অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন দলের কিছু কর্মী। পরে, দলের জেলা স্তরের নেতারা এই নিয়ে কথা বলতে গেলে, তাঁদের শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এরিয়া কমিটির সম্পাদক-সহ সাত জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সিপিএম সূত্রের খবর।
গত বছর কালীগঞ্জের উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন দুষ্কৃতীদের ছোড়া সকেট বোমায় প্রাণ গিয়েছিল সিপিএম সমর্থক পরিবারের বছর দশেকের বালিকা তামান্না শেখের। তার মাকে এ বার ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট। কিন্তু স্থানীয় এক নেতাকে প্রার্থী করার দাবিতে দলীয় কর্মীদের একাংশ পার্টি অফিসে এবং নেতাদের উপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সিপিএমের নদিয়া জেলা সম্পাদক মেঘলাল শেখ বলেন, “রাজ্য কমিটিকে সব জানানো হয়েছে।”
সিপিএম সূত্রের খবর, বুধবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে কালীগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নদিয়া জেলা নেতৃত্বের পাঠানো রিপোর্টে উঠে এসেছে, ঘটনাটি যারাই শেষ পর্যন্ত হাতে-কলমে ঘটিয়ে থাকুক, তাতে কর্মীদের একাংশের প্ররোচনা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বার্তা দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। বৃহস্পতিবার জেলা স্তরেও একটি বৈঠক হয়। সেখানে কালীগঞ্জের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই সাত জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই তালিকায় পলাশি এরিয়া কমিটির সম্পাদক অজয় সরকারের নামও রয়েছে। তবে অজয়ের দাবি, “আমাকে এই বিষয়ে কেউ কিছু জানাননি।” এ দিন বিকেলে প্রচারের ফাঁকে সাবিনা বলেন, “এতে বিশেষ কোনও সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। পাঁচ জন গেলে, দশ জন আসবে।”