কেউ কথা রাখেনি! তৃণমূলের পরাজয় চেয়ে পথে পার্শ্ব শিক্ষকেরা
আনন্দবাজার | ২০ মার্চ ২০২৬
অভিযোগ, খোদ মুখ্যমন্ত্রীর তরফে দেওয়া কোনও প্রতিশ্রুতিই রক্ষা হয়নি। আট বছর পরে ভাতা বেড়েছে মাত্র এক হাজার টাকা। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই পার্শ্ব শিক্ষকদের একাংশ রাস্তায় নেমে জনসাধারণকে মনে করাবেন তাঁদের বঞ্চনার কথা। পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সভাপতি ভগীরথ ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের বঞ্চনার কথা সাধারণ মানুষকে মনে করাব। আমাদের আবেদন, যে এলাকায় যে বিরোধী দল শক্তিশালী, তাদের ভোট দিন। আমরা কলকাতার ভবানীপুর-সহ বেশ কিছু এলাকায় স্ট্রিট কর্নার করছি।’’
পার্শ্ব শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ২০০৯ সালে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বিরোধী দলনেত্রী। তখন তাঁদের সভায় এসে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকারে এলে তাঁর প্রধান কাজ হবে পার্শ্ব শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো রেকর্ডিং, খবরের কাটিং আছে তাঁদের কাছে। এর পরে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সিঙ্গুরের জমি ফেরত এবং পার্শ্ব শিক্ষকদের ছ’মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে ওই বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের প্রমাণও তাঁদের কাছে আছে। কিন্তু এত বছর পরে সেই স্থায়ীকরণ আজও হয়নি।
সেই সঙ্গে রয়েছে ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষও। পার্শ্ব শিক্ষকদের মতে, ২০১৮ সালে তাঁদের ভাতা বেড়েছিল মোটামুটি চার হাজার টাকা। তার পরে টানা আট বছর এক টাকাও ভাতা বাড়েনি। ২০২৬ সালে এসে ভাতা বেড়েছে মাত্র এক হাজার টাকা। ফলে, এখন প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকের পার্শ্ব শিক্ষকেরা হাতে পান যথাক্রমে ১০৪২৮ টাকা এবং ১৩৬৪১ টাকা। ভগীরথদের অভিযোগ, স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় ৫৫ বছর পর্যন্ত বসার সুযোগ ছিল। তৃণমূলের সরকার সেই সংরক্ষণের নিয়মও তুলে দেয়। ফলে এ বারের ভোটে তৃণমূলের পরাজয় চেয়ে মাঠে নামতে চাইছেন ক্ষুব্ধ পার্শ্ব শিক্ষকেরা। তাই এই সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতেই সমাবেশ-মিছিল করে সাধারণের কাছে আর্জি জানাবেন তাঁরা।
ভগীরথ জানান, রাজ্যে পার্শ্ব শিক্ষকের সংখ্যা ৪১ হাজারের মতো। প্রতিটি পরিবারে চার জন সদস্য আছেন ধরে নিলে মোট ভোটারের সংখ্যা কিছু কম নয়। এক পার্শ্ব শিক্ষক জানান, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে সম্প্রতি ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর সভায় তাঁরা মমতার দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা তাঁকে মনে করিয়ে দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কার্যত ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাঁদের সেখান থেকে বার করে দেয় বলে অভিযোগ।
নিখিল বঙ্গ পার্শ্ব শিক্ষক সমিতির সভাপতি মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কি সবটাই ভুলে গেলেন? আমরা লিফলেট তৈরি করে আমাদের বঞ্চনার কথা লিখে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। দীর্ঘ বছর ধরে নিয়োগ না হওয়ায় এখন বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকের অভাব। সাধারণ শিক্ষকদের মতোই পার্শ্ব শিক্ষকেরাও স্কুলের সব দায়িত্ব পালন করছেন। তবু আমরা কেন দীর্ঘ দিন অবহেলিত থাকব?’’
যদিও শাসকদলের মতে, পার্শ্ব শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সরকারই। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম বলেন, ‘‘কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা সত্ত্বেও এই সরকার পার্শ্ব শিক্ষকদেরঅবসরকালীন ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি সুনিশ্চিত করেছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি চালু করেছে। পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে ফাইল অর্থ দফতরে গিয়েছে। এই সরকারের উপরে পার্শ্ব শিক্ষকদের নিশ্চিত ভাবে ভরসা রাখতে হবে। আমরাও রাজনৈতিক মিটিং-মিছিলে এই সরকারের পার্শ্ব শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরব।’’