• ভোটের বাজারে দেওয়াল লিখে লক্ষ্মীলাভ শিল্পীদের
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম

    অন্য সময়ে তাঁদের ডাক পড়ে না। কিন্তু ভোট এলেই হাতে রং-তুলি নিয়ে হাজির হন তাঁরা। বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলগুলি আগে থেকেই তাঁদের বুকিং করে নেন। আবার অনেক জায়গায় দেওয়াল আঁকার শিল্পী খুঁজে পাওয়া যায় না বলে জানান রাজনৈতিক কর্মীরা। নির্বাচনের ঘণ্টা বাজতেই পাড়ার অলিগলির ফাঁকা দেওয়ালগুলিতে প্রার্থীর নাম লিখতে ডাক পড়ে শিল্পীদের। তার সঙ্গে আঁকা হয় প্রতীক চিহ্ন। সারা বছর এই সমস্ত শিল্পীর কদর না থাকলেও ভোটের মরশুমে এঁদের কদর বাড়ে। ঝাড়গ্রামের দেওয়াল লিখনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের তাই ভোট মরশুমে লক্ষ্মীলাভও হয়।

    সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের হয়েই দেওয়াল লিখনে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন চণ্ডীচরণ মাহাতো ও সঞ্জয় মাণ্ডিরা। রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দলকুলি গ্রামে চণ্ডীচরণের বাড়ি। সঞ্জয় থাকেন ঝাড়গ্রাম শহরের জামদা এলাকায়।

    শহরের আদিবাসী মার্কেটে সঞ্জয়ের একটি দোকান রয়েছে। যেখানে সঞ্জয় নানা রকম বিজ্ঞাপন, প্রচারমূলক দেওয়াল লিখনের কাজ করেন। এমন দোকান রয়েছে চণ্ডীচরণেরও। অনেকে শিল্পী আবার দোকান ছাড়াই কন্ট্রাক্ট হিসেবে কাজ করে থাকেন। বিধানসভা, লোকসভা, পঞ্চায়েত, পুরসভা যে কোনও ভোটেই অন্য কাজ ভুলে রাজনৈতিক দলগুলির হয়ে রং-তুলি নিয়ে দেওয়াল লিখনের কাজে নেমে পড়েন তাঁরা। চণ্ডীচরণ জানিয়েছেন, ১৫ থেকে ২০ ফুট লম্বা দেওয়াল রং করার জন্য ৩০০ টাকা দেওয়া হয়। দেওয়াল লিখনের সমস্ত রং তাঁদেরই দিতে হয়। তবে যে দেওয়াল জুড়ে দেওয়াল লিখন হবে সেই দেওয়ালটি সাদা রং করার দায়িত্ব থাকে রাজনৈতিক দলের। অনেক ক্ষেত্রে আবার রঙের দাম রাজনৈতিক দলগুলি দিয়ে দেয়। তখন শিল্পীরা ২০০ টাকা করে পান।

    চণ্ডীচরণ বলেন, 'তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস- সব মিলিয়ে এ বার ২০০টিরও বেশি বরাত পেয়েছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়াল লিখনের কাজ চলছে।' দু'জন শিল্পী মিলে একদিনে ২০ থেকে ২৫টি দেওয়াল লিখতে পারেন। সঞ্জয় বলেন, 'কুড়ি বছরের বেশি সময় ধরে দেওয়াল লিখছি। চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি। উল্টে আরও বেড়েছে। সারা বছর রাজনৈতিক দলগুলি আমাদের ভুলে থাকলেও ভোটের সময় ঠিক মনে রাখে। এই সময়ে ভালো উপার্জনও হয়।'

  • Link to this news (এই সময়)