• ‘ওঁরা বাঁচাতে পারত, তবু কিছু করেনি...’, RG Kar-এর ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ মৃতের বাবার
    এই সময় | ২০ মার্চ ২০২৬
  • ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আরজি কর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ তুললেন মৃত যুবকের বাবা। শুক্রবার সকালে সন্তানের চিকিৎসা করাতে এসে লিফটে আটকে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর বাবার অভিযোগ, সঠিক সময়ে বন্ধ লিফট থেকে উদ্ধারে উদ্যোগী হলে বাঁচানো যেত তাঁর ছেলেকে। মৃত যুবকের বাবার অভিযোগ, ‘ওঁদের জেলে পাঠানো উচিত। আমার ছেলেকে ওঁরা বাঁচাতে পারত। কিন্তু কিছু করেনি।’ এখানেই শেষ নয়, লিফটের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীদের আত্মীয়-পরিজনদের একাংশের অভিযোগ, ওই লিফটটি মাঝে মাঝেই গোলমাল করত। ঘটনার সময়ে কোনও লিফট চালকের দেখা মেলেনি বলেও অভিযোগ।

    এ দিন সকালে আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চার বছরের ছেলের অস্ত্রোপচার করাতে এসে মর্মান্তিক ভাবে প্রাণ হারান অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪০ বছর বয়সি ওই যুবক অসুস্থ পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের পাঁচতলায় যাওয়ার সময়ে লিফটে আটকে পড়েন। লিফটটি উপরে যাওয়ার বদলে বেসমেন্টে এসে আটকে যায়। বন্ধ লিফটের ভিতর থেকে তাঁদের আর্তচিৎকার শুনে সেখানে ছুটে আসেন আত্মীয় পরিজনেরা। লিফটের বাইরেই ছিলেন যুবকের বাবা। তিনি অভিযোগ করেছেন, সেখানে উপস্থিত হাসপাতাল কর্মী ও পুলিশের হোমগার্ডের কাছে উদ্ধার করার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন। হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে জানান, লিফটের চাবি PWD অফিসে আছে। লিফটের উপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফোন নম্বর লেখা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ করা যায়নি। উদ্ধারের উপায় না দেখে দমকলকে ফোন করার কথাও বলেন যুবকের বাবা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কেউই তাঁর কথায় কান দেয়নি। অরূপ, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধারের কোনও উদ্যোগ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। প্রায় ২ ঘণ্টা পরে হাতুড়ি নিয়ে লিফট ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছেন মৃতের আত্মীয়রা।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ)। অরূপের বাবা তাঁর কাছেও কর্মীদের উদাসীনতার বিষয়ে অভিযোগ জানান। তাঁর আরও অভিযোগ, ছেলেকে উদ্ধারের জন্য কর্মীদের কাছে আর্জি জানানোয় তাঁকে রীতিমতো ধমকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। মৃতের বাবার অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই টালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে অরূপের পরিবার।

    তবে হাসপাতালের লিফট ও উদ্ধার কাজে বিলম্ব নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের লিফ্‌টগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে মূলত বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পূর্ত বিভাগ। শুক্রবার সকালের ঘটনার পরেই লিফ্‌ট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    মৃতের পরিবারের দাবি, এদিন সকালে অরূপরা লিফটের ভিতরে থাকাকালীন সেটি প্রথমে উপর দিকে কিছুটা উঠে ফের নীচে নেমে আসে। তার পরে সজোরে বেসমেন্টে গিয়ে ধাক্কা খায়। ভিতরেই অসুস্থ শিশুকে নিয়ে আটকে পড়েন ওই যুবক ও তাঁর স্ত্রী। শত চেষ্টা করেও ভিতর থেকে লিফটের দরজা খোলা যায়নি। বহুক্ষণ কেটে যাওয়ার পরে লিফটের দরজা খোলা সম্ভব হয়। ভিতর থেকে উদ্ধার হয় যুবকের নিথর দেহ। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, বন্ধ লিফটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

    RG Kar-এর উপাধ্যক্ষ তথা সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাত আড়াইটে নাগাদ সস্ত্রীক ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ে আসেন অরূপ মুখোপাধ্যায়। ভোরের দিকে ট্রমা কেয়ারের পাঁচতলায় যাওয়ার সময়ে লিফটেই তিন জন আটকে পড়েন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে সুরক্ষিত ভাবে উদ্ধার করা গেলেও, অরূপকে বের করার সময় ফের লিফট ঝাঁকুনি দিয়ে উপরে উঠতে শুরু করে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই থেমেও যায়। তার ফলে অরূপের বুকে ভয়াবহ আঘাত লাগে। তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। উদ্ধারের পরে তাঁকে ওয়ার্ডে নিয়ে এসে চিকিৎসা শুরু করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি’। লিফটের যান্ত্রিক ক্রুটির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। আরজি করের উপাধ্যক্ষ তথা সুপারের দাবি,‘লিফটে কোনও সমস্যা ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিফট প্যানেলে গেল কী করে তা দেখতে হবে। তবে ট্রমা কেয়ারের লিফট অ্যাক্টিভ ছিল। লিফট খারাপ থাকলে লেখা থাকত। PWD অফিসারদের থেকে বিস্তারিত রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।’

  • Link to this news (এই সময়)