• ‘পেপারলেস ট্রেড’-এ জোর, এসএনইউ-তে বিশেষ ওয়ার্কশপ
    আজকাল | ২১ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স এবং সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয় (এসএনইউ) মিলিতভাবে ২০ মার্চ, শুক্রবার সারাদিনব্যাপী আয়োজন করল বিশেষ কর্মশালার। এতে অংশ নিয়েছিল ‘বিমস্টেক’-এর সদস্যরা। বিমস্টেক-এর অর্থ ‘বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড একোনমিক কো-অপারেশন’। এটি বঙ্গোপসাগরের আশেপাশে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে তৈরি বিশেষ দল। উক্ত দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

    বর্তমানে এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের পরিমাণ মোটের মাত্র ৭ শতাংশ হলেও, আগামী কয়েক বছরে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্মশালায় জোর দেওয়া হয়েছে ‘পেপারলেস ট্রেড’-এর গুরুত্বে। ‘পেপারলেস ট্রেড’ বলতে বোঝায় বাণিজ্য সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্রকে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালনা করা। এর ফলে কাগজপত্রের ব্যবহার কমে, সময় ও খরচ সাশ্রয় হয় এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি নতুন সুযোগ তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা সহজ হয়। 

    এই বিষয়কে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এসএনইউ অডিটোরিয়ামে। কর্মশালায় মায়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেন, কাউন্সিল জেনারেল অফ মায়ানমার অং অং ম্যাও থেইন, নেপালের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঝাক্কা প্রসাদ আচার্য্য। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বিমস্টেকের উপকারিতা এবং সমস্যাগুলিও। পাশাপাশি আলোচনায় বেরিয়ে আসে তার সমাধানও এবং সেই সমাধানে কীভাবে দেশগুলি কাজ করছে তাও জানা যায়। 

    তাঁদের কথায়, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য বৃদ্ধির পথে একাধিক বাধা রয়েছে। প্রথমত, বিভিন্ন দেশের কাস্টমস ব্যবস্থার অদক্ষতা ও ধীরগতি বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে। দ্বিতীয়ত, দেশভেদে আলাদা নিয়মকানুন থাকায় একটি পণ্য এক দেশে অনুমোদিত হলেও অন্য দেশে তা বাধার মুখে পড়ে। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে। এছাড়া দেশগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও একটি বড় সমস্যা। 

    আগত অতিথিদের কথায়, BIMSTEC দেশগুলির মধ্যে পেপারলেস ট্রেড সহজ করতে আইনি কাঠামোর সমন্বয় প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশের আইনি ব্যবস্থাকে একসঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লেনদেন ও যোগাযোগ নির্বিঘ্নে করা যায়, সে বিষয়ে বক্তব্য রাখেন, আন্তর্জাতিক এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কাটস, বিপুল চ্যাটার্জি। পাশাপাশি, ইলেকট্রনিক ও কাগজভিত্তিক নথির সমান কার্যকারিতা ও আইনি স্বীকৃতি স্পষ্ট করতে উপযুক্ত আইন গ্রহণ করা দরকার- এই বিষয়ে সহজ করে, স্লাইড শোয়ের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের প্রধান ড. ইমন কল্যাণ লাহিড়ী। আবার তেমনই ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ড সংক্রান্ত ইউএনআইটিআরএএল বা UNCITRAL মডেল আইন গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত- এই বিষয়ে এক সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন সেন্ট জেভিয়ার্সের ডিন অফ ইন্টার্ন্যাশনাল স্টাডিস অ্যান্ড প্রোগ্রাম, ড. পাঁচালি সেন। 

    উক্ত সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কালাদান মাল্টি-মোডাল প্রকল্প এবং সিত্তে বন্দর এই অঞ্চলে বাণিজ্যের নতুন পথ তৈরি করছে। পাশাপাশি মোটর ভেহিকল চুক্তির মাধ্যমে এক দেশের যানবাহন অন্য দেশে প্রবেশ করতে পারলে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পেপারলেস ট্রেড ও সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বিমস্টেক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে এই আশায় কলকাতার সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হল।
  • Link to this news (আজকাল)