খেলতে খেলতে বেলুন ফেটে দুধের শিশুর নাকে ঢুকে গিয়েছিল। তাও চিকিৎসা না পেয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে ঘুরতে হয়েছে ওই শিশুকে নিয়ে, অভিযোগ পরিবারের। সেই পরিস্থিতিতেই নাগাড়ে কেঁদে গিয়েছে শিশু। পরে পাশের জেলার গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে মিলল সুরাহা। শিশুর নাক থেকে ফাটা বেলুনের অংশ বের করেছেন গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক। শুক্রবারের ঘটনা।
কোচবিহারের পুন্ডিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসদহ নতিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ সরকার পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁর শিশু কন্যার বয়স ২ বছর ৯ মাস। গত মঙ্গলবার গ্রামের এক বাড়িতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে ওই শিশু। সেখান থেকে একটি বেলুন নিয়ে আসে ওই শিশু। বুধবার বিকেলে ওই বেলুনটি নিয়ে খেলার সময়ে হঠাৎ করে সেটি ফেটে যায়। তখনই বেলুনের একটি অংশ শিশুটির নাকের ভিতরে ঢুকে যায়। শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে বাড়ির লোকজন ছুটে আসে। তখনই পুন্ডিবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় ওই শিশুকে। সেখান থেকে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যালে ওই শিশুকে রেফার করে দেওয়া হয়।
রাত আটটার পরে শিশুটিকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। পরিবার জানাচ্ছে, প্রথমে চিকিৎসকরা দেখে এক্স-রে করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মেডিক্যালে এক্স-রে হওয়ার পরে প্রায় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওই পরিবারের। এরপর চিকিৎসক জানান, মেডিক্যালে নাক থেকে বেলুন বের করে দেওয়া যাবে না, দাবি পরিবারের। এই অবস্থায় রাতে তাঁরা ফের পুন্ডিবাড়িতে ফিরে যান।
পরদিন সকালে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কোচবিহারের একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয় ওই শিশুকে। সেখানে প্রবল ভিড় ছিল। অসুস্থ শিশু প্রবল কান্নাকাটি করছিল। তারপরে ওই ব্যক্তির এক আত্মীয়ের পরামর্শে আলিপুরদুয়ার জেলার যশোডাঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়। কোচবিহার থেকে ৫০ কিলোমিটার উজিয়ে আলিপুরদুয়ারের যশোডাঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিবারটি পৌঁছয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক প্রণব মণ্ডল কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুর নাক থেকে বেলুনের অংশ বের করে ফেলেন।
শুক্রবার পুন্ডিবাড়ির বাড়িতে শিশুটিকে ফিরিয়ে এনেছে পরিবার। সে এখন সুস্থ রয়েছে। শিশুর বাবা প্রসেনজিৎ সরকারের কথায়, ‘এত বড় মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা না পেয়ে ঘুরে যেতে হলো। দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে জানায় এখানে বড় মেশিন না থাকায় নাক থেকে বেলুনের টুকরো বের করা যাবে না।’ তাঁর ক্ষোভ, ‘বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার অসুস্থ শিশুকে কী ভাবে নিয়ে কাটিয়েছি, সেটা একমাত্র আমরাই জানি। সারারাত ঘুমাইনি। মেয়ে টানা কেঁদে গিয়েছে।’ যশোডাঙ্গা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসককে ধন্যবাদ জানিয়েছে পরিবার।
চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ নিয়ে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালের এমএসভিপি সৌরদীপ রায়, ‘এমন অভিযোগ এখনও পাইনি। বৈধ নথি ও রেফার করার পেপার-সহ কোনও নথি পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সীমিত ক্ষমতা ও পরিকাঠামোর মধ্যে থেকেও সবার ভালো করার যে চেষ্টা করি, সেটা আরও একবার প্রমাণ করলেন যশোডাঙা হাসপাতালের চিকিৎসক প্রণব মণ্ডল।’