• প্রথম হার মোহনবাগানের, ৮০ শতাংশ বলের দখল রেখেও ঘরের মাঠে মুম্বইয়ের কাছে হেরে শীর্ষস্থান খোয়াল সবুজ-মেরুন
    আনন্দবাজার | ২০ মার্চ ২০২৬
  • মোহনবাগান ০
    মুম্বই ১ (নৌফাল)

    চলতি আইএসএলে পর পর চারটি ম্যাচ জেতার পর বেঙ্গালুরুর কাছে আটকে গিয়েছিল মোহনবাগান। এ বার হেরে গেল তারা। শুক্রবার ঘরের মাঠে মুম্বইয়ের কাছে ০-১ গোলে হারতে হল জেমি ম্যাকলারেনদের। এটাই তাদের মরসুমের প্রথম হার। শুধু তাই নয়, হেরে গিয়ে শীর্ষস্থান খোয়াতে হল মোহনবাগানকে। ছয় ম্যাচে মোহনবাগানের ১৩। সমসংখ্যক ম্যাচে এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে চলে গেল মুম্বই।

    অতীতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে স্কটল্যান্ডের ক্লাব সেল্টিকের বিরুদ্ধে বার্সেলোনা ৮৯ শতাংশ বল পজেশন রেখেও জিততে পারেনি। শুক্রবার মোহনবাগানের অবস্থাও হল তেমনই। প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখলে রেখেও জিততে পারল না তারা। মাঠে তারা সব কিছুই করেছে। শুধু গোলটা করতে পারেনি। একটি বল জালে জড়াতে সক্ষম হলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়েছে। ফলে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হার হজম করতে হয়েছে। মুম্বইয়ের কোচ থাকাকালীন কোনও দিন মোহনবাগানের কাছে হারেননি সের্জিয়ো লোবেরা। পুরনো দলের বিরুদ্ধে সেই রেকর্ড বজায় রাখতে পারলেন না তিনি। প্রথম সাক্ষাতেই হারতে হল।

    শুরু থেকেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসো এবং আপুইয়া মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। চার মিনিটে প্রথম সুযোগ তৈরি করে মোহনবাগান। জেসন কামিংস পাস দিয়েছিলেন অনিরুদ্ধ থাপাকে। সেখান থেকে বল পান লিস্টন। তাঁর ক্রস ধরার জন্য বক্সে কেউ ছিলেন না। প্রথম দশ মিনিটে মোহনবাগানের নাগাড়ে আক্রমণ সামলেছে মুম্বই। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে মুম্বইয়ের আক্রমণ ভাঙার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। জেমি ম্যাকলারেনের একটি ক্রস কাজে লাগাতে পারেননি লিস্টন।

    লিস্টনকে বেশ সপ্রতিভ লাগছিল শুরু থেকেই। বাঁ দিক থেকে মুম্বইয়ে সর্ব ক্ষণ ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন। খেলার বিপরীতে হঠাৎই একটি সুযোগ পেয়েছিল মুম্বই। মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কাইথকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতে। সে যাত্রা বাঁচিয়ে দেয় বিশালের হাত।

    গোল পেতে অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি মুম্বইকে। জর্জ দিয়াজ়ের থেকে বল পেয়েছিলেন ছাংতে। সেখান থেকে বল আসে জনি কাউকোর কাছে। মোহনবাগান ফুটবলারেরা ভেবেছিলেন কাউকো নিজে শট মারবেন। তা না করে টুক করে বাঁ দিকে থাকা নৌফালকে পাস দেন কাউকো। চলতি বলে গড়ানো শটে বিশালকে পরাস্ত করেন নৌফাল।

    ৩৯ মিনিটের মাথায় ভাল সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। আপুইয়া লম্বা বল বাড়িয়েছিলেন লিস্টনের উদ্দেশে। লিস্টন বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে এসে শট নিলেও তা বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের মুহূর্তে কামিংসের শট কোনও মতে বাঁচান মুম্বই গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা। এক মিনিট পরে দিমিত্রি পেত্রাতোসের একটি ফ্রিকিকও বাঁচান তিনি।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কামিংসকে তুলে রবসনকে নামিয়ে দেন লোবেরা। এতে মোহনবাগানের আক্রমণ আরও বেড়ে যায়। দিয়াজ় চোট পাওয়ায় মুম্বইয়ের কাজও কঠিন হয়ে যায়। লিস্টনের পাস পেয়ে গোল করতে পারেননি ম্যাকলারেন। ৬৩ মিনিটে গোল করে ফেলেছিলেন পেত্রাতোস। লাচেনপার বাঁচানো একটি বল হেড করে জালে ঢুকিয়েছিলেন অসি স্ট্রাইকার। তবে অফসাইডে সঙ্গে সঙ্গে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।

    রবসনও মুম্বই রক্ষণ ভেদ করতে পারেননি। ফাইনাল থার্ডে গিয়ে বার বার খেই হারিয়ে ফেলতে থাকে মোহনবাগান। ম্যাচ যত এগিয়েছে তত মুম্বই নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে গিয়েছে। মোহনবাগানের মতো দলের বিরুদ্ধে বেশি ক্ষণ এই কাজ করা কঠিন। তবে এ দিন সেটাই সফল ভাবে করল মুম্বই।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)