২০ দিনে ৩ বার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, এবার ভাড়া বাড়ানোর পথে অটো চালকরা
বর্তমান | ২০ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের দাম বেড়েছে অটোর জ্বালানি গ্যাসের। বৃহস্পতিবার এই এলপিজি গ্যাসের দাম ৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা ৬৮ পয়সা। উল্লেখ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই অটোর এলপিজির দাম ৫ টাকা ৮১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের আরও ৮ টাকা দাম বাড়ল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দামবৃদ্ধি কার্যত নজিরবিহীন বলছেন অটোচালকরা। এর ফলে অটোর ভাড়া বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও কলকাতা ও শহরতলির অনেক জায়গাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। পরিস্থিতি সঙ্গিন হয়ে ওঠায় অটো চালকরা একপ্রকার খাবি খাচ্ছেন বলে জানালেন।
অভিযোগ, ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চালকদের ছুটতে হচ্ছে পেট্রল পাম্পে। তিন থেকে চার ঘন্টা দাঁড়ানোর পর মিলছে জ্বালানি। আবার কোথাও কোথাও সেটাও মিলছে না। তখন ফের ছুটতে হচ্ছে অন্য পাম্পে। জ্বালানি তোলার লাইন দিতে ও ছোটাছুটি করতে দিনে পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টা বরবাদ হচ্ছে। পরিস্থিতির বদল কবে হবে তার দিকে তাকিয়ে তাঁরা। ‘গত ২০ দিনে তিনবার অটোর জ্বালানির দাম বেড়েছে। ভাড়া বাড়ানো ছাড়া গতি নেই,’ জানালেন তাঁরা। উল্টোডাঙা অঞ্চলের চালক বাবলা দাস জানান, এই নিয়ে তিনবার অটো এলপিজির দাম বাড়ল। প্রতিমাসের ১ তারিখে অটোর জ্বালানির দাম নির্ধারিত হয়। তা কখনও বাড়ে, কখনও কমে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ১ মার্চ প্রথমে তিন টাকা দাম বেড়ে গিয়েছিল। তারপর আবার প্রায় ৬ টাকা বাড়ল। এখন আবার ৮ টাকা। ১ মাসের মধ্যে ১৭ টাকার মতো বেড়ে গেল। তার মধ্যে ঠিকমতো জ্বালানি মিলছেও না। কয়েকঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। ঠিকমতো অটো চালানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউনিয়নের মিটিং ডাকব। ভাড়া বাড়ানো ছাড়া গতি নেই। এখন হয়তো কেউ কেউ এক-দু’টাকা বেশি নিচ্ছেন। কিন্তু ইউনিয়ন দাম বৃদ্ধি নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি।’ একই বক্তব্য টালিগঞ্জ অঞ্চলের অটোচালক সুরেশ ঘোষের। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৭১ টাকা লিটার দাম হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় বাড়তি ভাড়া না নিলে সংসার চালাতে পারব না। আগে দিনে ১০ ঘণ্টা অটো চালানো যেত। এখন পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টার বেশি চালানো যাচ্ছে না। এত টাকা দিয়ে জ্বালানি ভরানোর পর যদি ভাড়া খাটা না যায়, টাকা না ওঠে, তাহলে কী করে চলবে! দুই থেকে পাঁচ টাকা বেশি ভাড়া আমরা যাত্রীদের থেকে চেয়েই নিচ্ছি।’