নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আর জি কর-কাণ্ডে নাগরিক আন্দোলনের রাজনীতিকরণ হয়েছিল আগেই। এবার খুন হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়ার পরিবারের বিজেপিতে যোগদান এবং পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশকে ঘিরে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। এই আবহে পানিহাটির বিজেপি নেতার সমাজ মাধ্যমে পোস্ট ঘিরে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। ওই বিজেপি নেতা লিখেছেন, ‘পানিহাটিতে সিপিএমের প্রার্থী প্রত্যাহার করা উচিত।’ সেখানেই সিংহভাগ মানুষ তাঁর ওই মন্তব্যের চরম সমালোচনা করেন। যদিও ওই বিজেপি নেতার দাবি, সমালোচকরা কেউ সাধারণ নাগরিক নন। তারা সিপিএমের আইটি সেলের কর্মী।
পানিহাটির রাজনীতিতে বুধবার রাত থেকেই নাটকীয় পটপরিবর্তন শুরু হয়। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের চরম সমালোচনা, এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন খুন হওয়া ডাক্তারি ছাত্রীর বাবা-মা। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা বলেন, ‘আমরা পানিহাটিতে প্রার্থী হওয়ার জন্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছি।’ এনিয়ে পানিহাটি তো বটেই, রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহে বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক জয় সাহা সমাজমাধ্যমে পোস্টে লেখেন, ‘সিপিএম যদি সত্যি অভয়ার ন্যায়ের জন্য আন্দোলন করে থাকে, তাহলে পানিহাটিতে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহারের সাহস দেখাক। নাকি আন্দোলনের আড়ালে ভোটের রাজনীতি!’ তাঁর এই পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল হয়। তবে ওই পোস্টের কমেন্টে সিংহভাগই জয়বাবুর এমন দাবির তীব্র সমালোচনায় সরব হন। অনেকে আন্দোলনের সময়ের বিভিন্ন পত্রপত্রিকার কাটিং দিয়ে সেই সময় বাবা-মায়ের বক্তব্য তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে জয় সাহা বলেন, ‘প্রথম দিন থেকে সিপিএম প্রার্থী পানিহাটিতে অভয়াকে সামনে রেখে ভোট চাইছেন। এখন তো অভয়ার মা নিজেই প্রার্থী হচ্ছেন। ফলে সিপিএমের উচিত নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে অভয়ার মাকে সমর্থন করা। তা না করলে বুঝতে হবে, তাঁরা আন্দোলনের আড়ালে ভোটের রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন। আমার ওই পোস্ট দেখে আতঙ্কিত সিপিএম আইটি সেলকে নামিয়ে বিরুদ্ধে কমেন্ট করাচ্ছে। ওদের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সমর্থন করেছে আমার মতকে।’ সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা পানিহাটি বিধানসভার কনভেনর শুভব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘যেসব সাধারণ মানুষ আর জি কর আন্দোলনের বাস্তবতা সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন, তাঁদের লাল সেলাম। মিনাক্ষী-কলতানরা সেদিন কোনো দল, রং দেখে আন্দোলন করেনি। নিগৃহীতার পরিবার কোন পথে এগবে, কী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, তাতে আন্দোলন প্রভাবিত হবে না।’