এই সময়, খড়্গপুর: পথ-কুকুরদের (Stray Dog) নিয়ে জারি করা বিজ্ঞপ্তি আপাতত স্থগিত রাখল খড়্গপুর আইআইটি (IIT Kharagpur)। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আইআইটি ক্যাম্পাসে পথ কুকুরদের প্রবেশ ও খাবার দেওয়া বন্ধের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে আইআইটির ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তীকে ফোন করেন মানেকা গান্ধী (Maneka Gandhi)। তার পরেই শুক্রবার নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আইআইটি। ডিরেক্টর বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিতে ভাষাজনিত কিছু ত্রুটি ছিল। পথ-কুকুর নিয়ে প্রত্যেকের চিন্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখতে হবে। অর্থাৎ, কোথায় কী ভাবে খাবার দেবেন, যাতে কুকুর কামড়াতে না পারে, সে জন্য কী করণীয়— এ সব বিজ্ঞপ্তিতে বোঝানো কঠিন। এই ভাষাজনিত সমস্যার কারণে বিজ্ঞপ্তি স্থগিত করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাসে পথ-কুকুররা যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ১৬ মার্চ আইআইটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। জানানো হয়েছিল, পথ-কুকুরদের জন্য নির্দিষ্ট করা খাবারের স্থানগুলোও আর রাখা যাবে না। যা থেকে সবার মনে হয়েছিল, আইআইটি কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে আর পথ-কুকুরদের রাখতে চান না। সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশের পরেই মানেকা গান্ধীর হস্তক্ষেপে তা স্থগিত করল আইআইটি। আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে খড়্গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে পথ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। একটু অসাবধান হলেই পড়ুয়া, গবেষক, অধ্যাপক ও কর্মীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছে পথ-কুকুরের দল। কুকুরে কামড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি আইআইটির মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এক সেমিনার হয়েছিল। যেখানে বক্তব্য রাখছিলেন জার্মানির এক অধ্যাপক। তাঁকেও কুকুরে কামড়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫ জন কুকুরের কামড় খাচ্ছেন। অথচ, কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ, আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যেও কুকুরপ্রেমী অধ্যাপক, পড়ুয়ারা রয়েছেন। তাঁরা তখন প্রতিবাদ করছেন। তাই বিষয়টি নিয়ে সকলকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আবেদন জানিয়েছেন ডিরেক্টর। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সকলকেই ভাবতে হবে। প্রাণীর উপরে যেমন অত্যাচার করা চলবে না, আবার কেউ কুকুর-প্রেমী বলে গবেষণাগারেও কুকুরকে খাওয়াবেন, সেটাও কাম্য নয়।’