• ভগবানপুরে প্রার্থী বিতর্কে অশান্তি, চাপের মুখে বিজেপি নেতৃত্ব
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • প্রার্থী বদল করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুরে। এই নিয়ে ক্ষোভ এলাকার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। এই প্রার্থী বদল মেনে নিতে পারছেন বিজেপির কর্মীদের একাংশ। এই সিদ্ধান্ত বদল না হলে গণ ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকার বিজেপি কর্মীরা।

    গত বারে বিধানসভা নির্বাচনে ভগবানপুর (Bhagabanpur) আসনে জিতেছিলেন রবীন্দ্রনাথ মাইতি। তবে তাঁকে এ বার ওই আসনে প্রার্থী করা হয়নি। ভগবানপুর কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরেরই (Purba Medinipur) খেজুরির (Khejuri) বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিককে। পেশায় শিক্ষক শান্তনু প্রামাণিক ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করেছেন ভগবানপুর এলাকায়। তবে তাঁকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে নারাজ ভগবানপুর এলাকার বিজেপি কর্মীদের একাংশ।

    এলাকার কাউকে প্রার্থী না করায় তীব্র অশান্তি ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে বিজেপির অন্দরেই। শান্তনু প্রামাণিককে ‘বহিরাগত’ বলে উল্লেখ করছেন তাঁরা।

    স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ ‘বহিরাগত’ প্রার্থী মানতে নারাজ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই কেন্দ্রে লড়াই করতে হলে ভূমিপুত্র প্রার্থীই উপযুক্ত।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদায়ী বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতির পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রের নেতাকে প্রার্থী করায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দলের একেবারে তৃণমূল স্তরে। শুক্রবার ভগবানপুরে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন তাঁরা। তার পরে একাধিক মণ্ডল সভাপতি প্রকাশ্যে প্রার্থী নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা জানান। তাঁদের সঙ্গে বহু কর্মীও প্রার্থী নিয়ে বিরোধিতা করেছেন।

    স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, ভগবানপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বোঝেন এমন প্রার্থী না হলে আসন্ন নির্বাচনে দলকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাঁদের মতে, এলাকার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং স্থানীয় ইস্যু সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আছে এমন ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করতে হবে।

    ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো বার্তায় নিজের কথা জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ মাইতি। তাঁকে প্রার্থী না করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ভগবানপুর এলাকার বিজেপি (BJP) নেতা তপন মিদ্দ্যা-সহ অনেকেই জানিয়েছেন, প্রার্থী বদল না হলে পদ থেকে ইস্তফা দেবেন তাঁরা। অন্য দলে না গেলেও প্রার্থীর হয়ে কোনও প্রচার করবেন না তাঁরা। ইতিমধ্যেই তাঁরা তাঁদের মনোভাবের কথা দলের নেতাদের কাছে জানিয়ে দিয়েছেন।

    তবে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি দলের তরফে।

    তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তাদের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে

    একই পরিস্থিতি হাওড়ার বালি বিধানসভায়। বহিরাগত প্রার্থী চলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সেখানকার বিজেপি কর্মীরা।

  • Link to this news (এই সময়)