• RG KAR লিফট বিভ্রাটে গাফিলতি কার? উত্তর খুঁজছেন সব পক্ষ
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: চার বছরের ছেলেকে সামলাতে সামলাতে প্রায় চোখের সামনে লিফট থেকে বেরোতে গিয়ে স্বামীর মৃত্যু দেখলেন স্ত্রী। এই গাফিলতির দায় কার?— প্রশ্ন মৃতের পরিবারের। আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) বছর দেড়েক আগে ‘অভয়া’র মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। তার পর রক্ষণাবেক্ষণ আর পরিকাঠামো উন্নয়নে অনেক টাকা খরচ করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর (Health Department)। এর পরেও স্রেফ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই আরজি কর হাসপাতালে লিফট বিভ্রাটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪০)।

    এই গাফিলতির দায় কার, তা নিয়ে চাপানউতোর চলছে। কে দোষ ঘাড়ে নেবে? তাই সকলে সাফাই দিচ্ছেন। যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে করে মেরে দিয়েছে। এখনই খুনের মামলা রুজু করা উচিত। আমার কাছে তথ্য আছে, রিপেয়ারিং করা হচ্ছিল লিফটটি। আন্ডার–মেনটেন্যান্স লিফটে রোগীকে চাপিয়ে খুন করেছে। তাই প্রত্যক্ষ খুনের জন্য দায়ী আরজি করের সুপার, স্বাস্থ্য দপ্তর, স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।’

    পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোর ৪টে ১৫ মিনিট এবং ভোর ৫টা ১২মিনিট— আরজি কর হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় এই দু’বার ধরা পড়েছে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাতায়াত। প্রথম বার অপারেশন থিয়েটার-এর সামনে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দ্বিতীয় বার আহত অরূপকে উদ্ধারের পরে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মাঝে এক ঘণ্টা সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল? স্বাস্থ‍্যভবন ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে। সোমবার ওই রিপোর্ট দেওয়া হবে। শুভেন্দুর সুরেই মৃতের জেঠু প্রবীর বন্দ্যোপাধায়ের অভিযোগ, ‘খুন করা হয়েছে অরূপকে। খারাপ লিফট কেন রোগীর যাতায়াত করার জন্য খোলা থাকে?’

    আত্মীয়দের অভিযোগ, অরূপরা লিফটের ভিতর থেকে বার বার চিৎকার করলেও কেউ সাহায্য করতে আসেননি। এত সিআইএসএফ কর্মী, পুলিশ কর্মী, নিরাপত্তা রক্ষীরা কেউ সময়োচিত সাহায্যে এগিয়ে এলে অঘোরে প্রাণ যেত না অরূপের। তাই শোকার্ত পরিজন হাসপাতালের গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলছেন। আরজি করের উপাধ্যক্ষ তথা মেডিক্যাল সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পূর্ত বিভাগের। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনিও বুঝে উঠতে পারছেন না, লিফটম্যান সে সময়ে কোথায় ছিলেন!

    হাসপাতাল কর্তাদের বক্তব্য, বেসমেন্টে ক্যান্সার চিকিৎসার দামি তেজস্ক্রিয় যন্ত্র থাকে বলে ওই তলাটি তালাবন্ধ থাকে। ওখানে কোনও ভাবে ধোঁয়া দেখা দিলে কিংবা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আরও বড় বিপত্তি হবে। তাই সেখানকার চাবি ‘হাই সিকিউরিটি’তে রাখা হয়। যদিও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। মৃতের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, ‘লিফটম্যান কোথায় ছিলেন? তাঁর দায়িত্ব তো লিফট চালানো। তিনি কোথায় ছিলেন?’ তাঁর অভিযোগ, এঁদের গাফিলতিতেই ছেলের প্রাণ গেল। অরূপের পিসতুতো বোন সুতপা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘একবারও কেউ সাহায্যে এগিয়ে এলো না। একটু সাহায্য করলে বাঁচানো যেত দাদাকে। বেসমেন্টের তালা খুলতে কেউ এগিয়ে এলো না কেন? সরকারি হাসপাতাল যে এ রকম উদাসীন মনোভাব রাখে, তা চোখে দেখেও বিশ্বাস হচ্ছিল না। দাদার মৃত্যুর দায় কে নেবে?’

  • Link to this news (এই সময়)