এই সময়: সরকারি উদাসীনতায় ভোকেশনালাইজেশন অব স্কুল এডুকেশনের (Vocationalization of School Education) (সিএসএস-ভিএসই-এনএসকিউএফ) স্কিল–শিক্ষার শিক্ষক–শিক্ষিকারা প্রবল সঙ্কটের মুখে। সারা দেশেই অভিন্ন পাঠক্রমে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্কিল বিষয়গুলি পড়ানো হয়। ২০১৩ থেকে পশ্চিমবঙ্গ–সহ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছিল এই পাঠক্রম। উদ্দেশ্য ছিল, ‘স্কিলড ম্যান পাওয়ার’ তৈরি। কিন্তু এ রাজ্যে স্কুল এডুকেশনের ‘সিএসএস-ডিএসই-এনএসকিউএফ’র স্কিল–শিক্ষার শিক্ষক–শিক্ষিকারা গত চার মাস ধরে বেতনই পাচ্ছেন না! এমনকী ১৩ বছর আগে নিয়োগের সময়ে তাঁদের যে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হতো, এখনও ভাতার অঙ্ক রয়ে গিয়েছে সেখানেই!
রাজ্যের ১৬১১টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কিল–শিক্ষার পাঠক্রম চলে। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠক্রমে ১৬টি এমন বিষয়ে কর্মরত শিক্ষক–শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। প্রতিটি স্কুলে দু’জন করে শিক্ষক–শিক্ষিকা থাকার কথা। যাঁরা এনসিইআরটি এবং রাজ্য সরকারের গাইডলাইন মেনেই নিযুক্ত হয়েছেন। মাধ্যমিকে এই বৃত্তিমূলক বিষয়গুলি অ্যাডিশনাল পেপার হিসাবে বিবেচিত হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে স্কিল বিষয়গুলি ‘কম্পালসারি ইলেক্টিভ’ হিসাবেই বিবেচিত হয়। চার থেকে ছ’মাস অন্তর ভাতা পান এই শিক্ষক–শিক্ষিকারা।
যাদবপুর বিদ্যাপীঠের (Jadavpur Vidyapith) প্রসূনকলি ভৌমিকের কথায়, ‘এই ভাতা থেকেও আবার প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং ইএসআই খাতে টাকা কেটে নেওয়ায় বর্তমানে ১৫ হাজার টাকা হাতে পাই। এমনকী শনিবার ইদের আগেও অনেক মুসলিম শিক্ষক–শিক্ষিকা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’ ইউনাইটেড ডব্লিউবি এনএসকিউএফ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নিরূপম কোলে বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী এই ভোকেশনালাইজেশন অব স্কুল এডুকেশন হচ্ছে ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ তৈরির আগামী দিনের চাবিকাঠি। কিন্তু রাজ্য সরকার স্কুলশিক্ষা দপ্তরের পরিবর্তে কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে এই কোর্স পরিচালনা করছে।
ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত। তারা সরকারি পাঠ্যপুস্তক–সহ বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতি স্কুলে ল্যাব–পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও তা খরচ হয় না। সেই সঙ্গে স্টেশনারি মেটেরিয়াল, ইনড্রাসট্রিয়াল ভিজিট, গেস্ট লেকচার, অন জব ট্রেনিং থেকেও পড়ুয়ারা বঞ্চিত। ছাত্রছাত্রীরা হাতেকলমে শিখতে পারছে না। শিক্ষক– শিক্ষিকাদের নোটসের উপরে ভরসা করেই তারা পরীক্ষায় বসছে।’