• সোমেই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ, পুলিশ-প্রশাসনকে আইন–শৃঙ্খলার পাঠ কমিশনের
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বিস্তর জল্পনা চললেও শুক্রবার প্রকাশিত হলো না বাংলায় 'আন্ডার অ্যাজুডিকেশন' ('Under adjudication') বা 'বিচারাধীন' তালিকাভুক্ত 'পাশ' করা ভোটারদের তালিকা। সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে এ দিন জানিয়েছে কমিশন (ইসি)। তারপর থেকে প্রতি শুক্রবার ধাপে ধাপে লিস্ট বেরোবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন পর্যন্ত ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটারের নথির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে কতজনের নথিতে বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা সন্তুষ্ট হয়েছেন, তা কমিশনের তরফে খোলসা করা হয়নি। সূত্রের দাবি, ৩৫–৪০ শতাংশের মতো ভোটার নথির নিরিখে 'ফেল' করেছেন। তবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, এখনই নাকি 'বিচারাধীন' ১০ লক্ষের মতো ভোটারকে 'বাদ' দেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, 'এসআইআরের যে তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল, সেটা আজও বেরোয়নি। এ ভাবে দিনগু‍লি নষ্ট হচ্ছে। আমি যতদূর শুনেছি, ৬০ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ১০ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা আমি শুনেছি।' তাঁর সংযোজন, 'বেশিরভাগ বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর থেকে। নির্দিষ্ট ভাবে একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হয়েছে। হিন্দুদেরও অনেকের নাম বাদ পড়েছে। রাজবংশী, মতুয়াদের অনেকের নাম বাদ।' মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, '২২ লাখ ভোটারের নিষ্পত্তি করতে যদি ১৫–২০ দিন লাগে, তা হলে ভোটের আগে প্রসেস শেষ হবে তো? এটা জাস্টিস দেওয়ার নামে নির্বাচন কমিশনের ইনজাস্টিস নয়? ওরাই তো সব কিছু ক‍ন্ট্রোল করছে। সেই সঙ্গে অমিত শাহের অফিস, নরেন্দ্র মোদীর অফিস যাকে পারছে, থ্রেট করছে। আর বলছে ২০ লক্ষ জওয়া‍ন পাঠাও। তারা নাকি বুথের ভিতরে ঢুকে ছাপ্পা দেবে। এত পর্যবেক্ষক, ভিন রাজ্যের পুলিশ দেখে আমার তো চিন্তা হচ্ছে খাওয়াব কী! আমরা তো ভয় রান্নার গ্যাস নিয়ে। বাং‍লার মানুষের খাওয়া তো বন্ধ করে দিচ্ছে।'

    কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। তবে যে দিনই তালিকা প্রকাশিত হোক না কেন, আইন–শৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে পুলিশ–প্রশাসনকে। এ দিন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার–কমিশনারদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্র। সূত্রের দাবি, সেখানে তাঁরা জানান, ৩১ মার্চের মধ্যে আরও ৪০০ কোম্পানি এবং তার পরে ধাপে ধাপে ২,০০০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছবে। জেলাশাসকের অফিসগুলিতে কন্ট্রোল রুম এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। অশান্তি বা হিংসা হলেই কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা না–হলে কৈফিয়ত তলব থেকে শুরু করে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিইও। তিনি জানান, খুব শিগগিরই সুব্রত ও মিশ্র এবং সিইও নিজে আলাদা আ‍লাদা ভাবে ভোটের প্রস্তুতি দেখতে বিভিন্ন জেলা সফরে যাবেন।

    সিইও জানান, নিষ্পত্তি হওয়া 'বিচারাধীন' ভোটারদের তালিকা এ দিন পর্যন্ত ৪০ হাজার বুথে পৌঁছে গিয়েছে। বাকি কাজটা আজ–কালের মধ্যে সেরে ফেলা হবে। সোমবার বিকেলের মধ্যে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ‍লিস্ট প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া অনলাইনে নির্বাচন কমিশন ও সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইটে এপিক নম্বর দিয়ে দেখা যাবে, 'অ্যাজুডিকেশন' ভোটারের নাম তালিকায় উঠল কি না। যদিও এ দিন কমিশনকে নিশানা করে মমতার অভিযোগ, 'বিজেপি নেতাদের বিবৃতিগুলি আমরা সবাই শুনেছি। পার্টি অফিস থেকে ঠিক করেছিল, ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেবে। শুরুতেই ওরা ৫৮ লাখ নাম বাদ দিয়েছে। সঙ্গে ৬০ লক্ষ! সেই তো ১ কোটি ২০ লাখের কাছাকাছি হলো।'

    'বিচারাধীন' ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের তোড়জোড় চলার মধ্যেই এ বার 'ফেল' করা ভোটারদের আবেদনের জন্য অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গড়ার উদ্যোগ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের পরামর্শ মেনে ট্রাইব্যুনালের জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতির তালিকা প্রকাশ করেছে দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেখানে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ, বিশ্বজিৎ বসু, সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী–সহ ১৯ জনের নাম রয়েছে। এঁদের বিভিন্ন জেলাওয়াড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার কিছু বিধানসভা কেন্দ্র। বাকিরাও বিভিন্ন জেলার দায়িত্বে থাকবেন। 'অ্যাজুডিকেশন' তালিকাভুক্ত যে ভোটারদের নথিতে বিচারকরা সন্তুষ্ট না–হওয়ায় নাম বাদ যাবে, তাঁরা এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য অনলাইনে 'ECI NET' অ্যাপে অথবা 'https://ecinet.eci.gov.in' সাইটে গিয়ে আবেদন করা যাবে। আবার সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সশরীরে আবেদন করতে পারবেন। ডিএম, এসডিও বা এসডিএম–দের অনলাইনে তাঁদের আবেদন আপলোড করতে হবে। এরপরে দ্রুত ট্রাইব্যুনালকে এই ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)