• বেনজির নজরদারিতে জালে পড়বে রেকর্ড কালো টাকা? নজরে বঙ্গের ভোট
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়

    কেন্দ্রীয় বাহিনী, অবজ়ার্ভারের সংখ্যার নিরিখে এ বার বাংলার বিধানসভা ভোট (Bengal Assembly Elections) নতুন রেকর্ড গড়ছে। ভোটের বাংলায় উদ্ধার হওয়া নথি–হীন নগদ ও মদ–মাদকের পরিমাণের নিরিখেও কি নতুন রেকর্ড হতে চলেছে? নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক অতীতে ২০২১–এর বিধানসভা ভোট চলাকালী‍ন বাংলায় বৈধ নথি–হীন নগদ, গয়না, মদ ও মাদক মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ৩০০ কোটি টাকার বেশি সামগ্রী। এ বার ভোট হবে দু’দফায়— ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা ৪ মে। তার আগে ১৮ মার্চ পর্যন্তই উদ্ধারের অঙ্কটা ছাড়িয়েছে ১১২ কোটি টাকা।

    এ বার বাংলার ভোট হিংসা এবং কোনওরকম বেআইনি প্রভাব–প্ররোচনামুক্ত করতে রেকর্ড সংখ্যায় পর্যবেক্ষক আসছেন রাজ্যে। তাঁদের মধ্যে ১০০ জন এক্সপেনডিচার অবজ়ার্ভারের মূল দায়িত্ব, ভোটের সময়ে টাকা–গয়না–বেআইনি মদ–মাদকের খেলা বন্ধ করা। পাশাপাশি নন ব্যাঙ্কিং ফিনানশিয়াল কোম্পানির লেনদেনের উপরেও কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক (Reserve Bank), ইডি (ED), আয়কর, ডিআরআই (DRI)–এর মতো এজেন্সিগুলিকেও বিশেষ ভাবে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও অভিযান চালাচ্ছে। সেই অভিযানেই এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ১১২ কোটি ২৩ লক্ষ টাকার সম্পদ। যার মধ্যে নগদ রয়েছে ১ কোটি ২১ লক্ষ টাকা।

    কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও যদি কোনও ভাবে টাকা–গয়না, মদ–মাদকের কারবার চলে তা হলে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক, আয়কর, শুল্ক, আবগারি, রিভিনিউ ইন্টেলিজেন্স, বিএসএফ, ইডি, সিআইএসএফ–সহ ২৫টি বিভাগের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে। গড়ে ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ অর্থ বা ১০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনা বহনকারী যাত্রীদের উপরে বিশেষ নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে।

    কমিশন সূত্রের খবর, গত বেশ কয়েকটি ভোটে উদ্ধার হওয়া কালো টাকা, মদ, মাদক ও সোনা–সহ মূল্যবান ধাতু উদ্ধারের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ স্পর্শকাতর রাজ্যে পরিণত হচ্ছে। অতীতে মূলত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে ভোটের সময়ে টাকার খেলা এবং উত্তর ভারতের কিছু রাজ্যে মদ–মাদকের কারবার নিয়ে বেশি অভিযোগ উঠত। গত লোকসভা ভোটে গোটা দেশে বাজেয়াপ্ত হয়েছি‍ল মোট ৮,৮৮৯ কোটি টাকার সম্পত্তি, যার মধ্যে মাদক বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ৩,৯৫৮ কোটি টাকার। এ বার বাংলায় বিধানসভা ভোটে কালো টাকা, মদ, মাদক ও অন্যান্য মূল্যবান উপহারের নিরিখে ৫৫টি বিধানসভা কেন্দ্রকে অতি স্পর্শকাতর হিসেবে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নত করা হয়েছে। দার্জিলিং, মালদা, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা, বনগাঁ এবং উত্তর কলকাতার মতো জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে এই কেন্দ্রগুলি।

    ভোটের সময়ে উদ্ধার হওয়া কালো টাকা ও অবৈধ সম্পদ ভোট মিটলে কী হয়?

    সূত্রের খবর, আয়কর, শুল্ক, ইডি, আবগারি দপ্তর, পুলিশ–সহ যে যে এজেন্সি এই টাকা বা মদ, মাদক, মূল্যবান ধাতু–সহ অবৈধ সম্পদ আটক করে, তা তারা নিজেদের হেফাজতে রেখে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেয়। পরে বাজেয়াপ্ত হওয়া টাকা বা সোনা–রুপোর ক্ষেত্রে বৈধ নথি দেখাতে পারলে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তা সংশ্লিষ্ট মালিককে ফেরত দেওয়া হয়। না হলে তা সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে। মাদকদ্রব্য উদ্ধার হলে তা বাজেয়াপ্তের পরে ‘নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস’ আইনে মামলা হয় এবং পরে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে তা ধ্বংস করা হয়। বেআইনি মদও নষ্ট করা হয়।

    বঙ্গে বাজেয়াপ্ত

    — ২০১৪ লোকসভা— ১৮ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা

    — ২০১৬ বিধানসভা— ৪৪ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা

    — ২০১৯ লোকসভা— ১১৮ কোটি ৪ লক্ষ টাকা

    — ২০২১ বিধানসভা— ৩০০ কোটি ১১ লক্ষ টাকা

    — ২০২৪ লোকসভা— ২১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা

    — ২০২৬ বিধানসভা— ১১২ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা (১৮ মার্চ পর্যন্ত)

  • Link to this news (এই সময়)