• কমিশনের বিধি সম্পর্কে সচেতন করতে থানায় বিশেষ রেজিস্টার চালুর নির্দেশ
    আনন্দবাজার | ২১ মার্চ ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের আগে প্রায় রোজই একাধিক নির্দেশিকা বা বিধি জারি করছে নির্বাচন কমিশন। সেই সব বিধি যাতে কলকাতা পুলিশের থানাগুলির নিচুতলার কর্মীদের কাছেও পৌঁছয়, তার জন্য প্রতিটি থানায় ‘নির্বাচন রেজিস্টার’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার নগরপাল অজয়কুমার নন্দ। একই সঙ্গে, নিচুতলার পুলিশকর্মীরা যাতে এই নির্দেশিকা বা বিধি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন, তার জন্য থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নিয়মিতপ্রশিক্ষণের আয়োজন করতেও বলা হয়েছে।

    এক পুলিশ আধিকারিক জানান, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণকরাতে নগরপাল বদ্ধপরিকর। সেই কারণে বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যযাতে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং পেশাদারি পদ্ধতি মেনে কাজ করেন, তা নিশ্চিত করতেই বৃহস্পতিবার এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

    লালবাজারের একটি সূত্রের দাবি, অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশিকা সম্পর্কে পুলিশকর্মীদের একাংশ ওয়াকিবহাল থাকেন না। এতে পরিস্থিতি বিশেষে অস্বস্তিতে পড়তে হয় পুলিশ বিভাগকেই। এ বার এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি এড়াতে নগরপাল এক পাতার ওই নির্দেশিকায় থানার অফিসারদের করণীয় স্থির করে দিয়েছেন।

    সূত্রের খবর, লালবাজারের তরফে থানাগুলিকে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশিকা সম্পর্কিত হ্যান্ডবুক দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, কমিশনেরজারি করা নির্দেশিকা লিখে রাখতে বলা হয়েছে থানার নির্বাচন রেজিস্টারে। যাতে অফিসার থেকে শুরু করে কর্মীরা সহজেই তা দেখতে পারেন। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্টনির্দেশিকার বিষয়ে পুলিশকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওসি-দের।

    পুলিশের একাংশের দাবি, এই প্রশিক্ষণ নিয়মিত ঠিক ভাবে হচ্ছে কিনা, কী কী পদক্ষেপ করাহয়েছে— সে সব ডিভিশনাল উপ-নগরপালদের মাধ্যমে জানাতে হবে লালবাজারকে। ওই রিপোর্ট দেওয়ার সঙ্গেই লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন বিভিন্ন থানা পরিদর্শন করে নির্বাচনী বিধি সম্পর্কে পুলিশকর্মী ও অফিসারদের অবহিত করেন। পুলিশের একাংশের অনুমান, বাহিনীর প্রত্যেকে যাতে ভোটের সময়ে কমিশনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন, এর মাধ্যমে লালবাজার সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে।

    লালবাজার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ওই নির্দেশিকায় নগরপালকেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যথাযথসমন্বয় বজায় রেখে চলার জন্য থানাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষত, রুট মার্চ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময়ে যাতে দু’পক্ষের মধ্যে সমন্বয় থাকে, সে দিকে নজর রাখতে বলেছেন। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে ইদের আগে শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক করেছেন নগরপাল। সেখানেশান্তিপূর্ণ ভাবে ইদ পালনের জন্য বলেছেন তিনি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)