• লিফ্‌টে মৃত্যুর দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর: বিরোধী, পাল্টা সরব তৃণমূল
    আনন্দবাজার | ২১ মার্চ ২০২৬
  • আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছিল রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিধানসভা ভোটের মুখে সেই আর জি করেই অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির লিফ্‌টে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও রাজনীতির স্বর চড়ল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলে দাবি করে এফআইআর দায়ের করার দাবি তুলেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপরে দায় চাপিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেসও। ঘটনার জন্য ‘স্থানীয় প্রশাসন’কে দায়ী করে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

    বিরোধী নেতা শুভেন্দু শুক্রবার বলেছেন, “দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লিফ্‌টের ভিতরে আটকে থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও প্রশাসনের ঘুম ভাঙেনি। যে লিফ্‌টে মেরামতির কাজ চলছিল, সেটিই কী ভাবে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের ব্যবহারের জন্য খোলা রাখা হল?” বিরোধী নেতার সংযোজন, “দ্রুত খুনের মামলা দায়ের করা উচিত। খুনের জন্য দায়ী আর জি করের সুপার, স্বাস্থ্য দফতর, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।”

    ঘটনার খবর পেয়ে আর জি করে গিয়েছিলেন হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্য তথা কাশীপুর-বেলগাছিয়ার তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ। এ বারেও ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী অতীনের দাবি, “এটা হাসপাতালের স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা। উপযুক্ত নজরদারি থাকলে এটা ঘটত না। রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক ডেকে জানতে চাইব, নিরাপত্তা, লিফ্‌ট সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সংস্থা দায়িত্বে, কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” ওই কেন্দ্রেরই বিজেপি প্রার্থী রীতেশ তিওয়ারি পাল্টা বলছেন, “রোগী কল্যাণ সমিতির দায়িত্বে যিনি, তিনিই বলছেন গাফিলতি। বিধায়ককেই এর দায় নিতে হবে।”

    পুরো ঘটনাটিকে ‘অতন্ত মর্মান্তিক, অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “এই ঘটনার মধ্যে রাজনীতি আনতে চাই না। কিন্তু শুভেন্দু বা বিজেপি নেতারা রাজনীতি করতে চাইলে, ওঁরা আগে বলুন সম্প্রতি বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় হাসপাতালে আইসিইউ-তে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন কেন মারা গেলেন?”

    এই প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছে সিপিএম এবং কংগ্রেসও। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীই স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব দেওয়ার লোক পাননি। সব নিজে করতে গিয়ে বারোটা বাজাচ্ছেন। কয়েক দিন আগেই এত বড় (ধর্ষণ, খুন) ঘটনা ঘটল। তার পরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বদলের কথা বলা হল। কিন্তু, সব একই তিমিরে রয়েছে। সরকার না বদলালে অব্যবস্থা বদলাবে না।” একই সুরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরীও বলেছেন, “ডাক্তারদের আন্দোলনের সময়ে হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বললেন, সব সমস্যার সমাধান হবে। তার পরেও এই ঘটনা। তাঁকে ক্ষমতা থেকে না-সরালে রাজ্যে আর কিছু থাকবে না!”
  • Link to this news (আনন্দবাজার)