• বিজেপির প্রার্থী হয়ে রাজনীতির ময়দানে নামতেই ভারত সেবাশ্রম থেকে বহিষ্কৃত সন্ন্যাসী
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, কালিয়াগঞ্জ: রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়েছেন অনেকেই। এই তো কয়েক দিন আগে ভোটের টিকিট না পেয়ে রাজনীতি ছেড়ে 'সন্ন্যাস' নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন চুঁচুড়ার (Chinsura) বিদায়ী তৃণমূল (TMC) বিধায়ক অসিত মজুমদার। এ বার উলটপুরাণ। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপির (BJP) টিকিটে দাঁড়িয়েছেন ভারত সেবাশ্রম (Bharat Sevashram) সঙ্ঘের সন্ন্যাসী স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ ওরফে উৎপল মহারাজ। যদিও সঙ্ঘ কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পরিচালন সমিতির মিটিং ডেকে তাঁকে বহিষ্কার করেছেন।

    সংগঠনের কলকাতার প্রধান কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, 'সেবাশ্রমের কোনও সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী বা আশ্রমবাসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। কিন্তু উৎপল মহারাজ আশ্রম পরিত্যাগ করে রাজনীতির ফাঁদে পা দিয়ে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছে। সেই কারণে তাঁকে সঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।' এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী নিতাই বৈশ্য। তিনি বলেন, 'ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার জায়গা। ভোগ, বিলাস মোহ-মায়া ত্যাগ করে, মানুষের সেবা ছেড়ে ভোটে দাঁড়ানোর ঘটনা সত্যিই লজ্জার।'

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ মাসের গোড়ায় রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে বিজেপি দলের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেন। রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক পালও তাঁকে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন। তার পরেই তিনি বিজেপি দলের প্রার্থী হওয়ার জন্যসম্মতি জানান। ১৭ এপ্রিল তিনি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। মেলে ইস্তফাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দেন তিনি। আশ্রম ছেড়ে বর্তমানে কালিয়াগঞ্জে একটি ভাড়া বাড়িতে রয়েছেন সন্ন্যাসী। তিনি ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি করে স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ বলেন, 'আমি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এসেছি। সেই কারণে আগে সঙ্ঘের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। শুক্রবার স্বামীজিরা আমার সেই ইস্তফাপত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।'

    সন্ন্যাস নেওয়ার আগে উৎপল মহারাজের বাড়ি ছিল দক্ষিণ দিনাজপুরে। ২০০০–এ তিনি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে যোগদান করেন। ২০০৪–এ উপনয়ন সংস্কার, ২০০৮–এ ব্রহ্মচর্য সংস্কার, ২০১৬–তে তিনি সন্ন্যাসী হন। কেন ভোটে দাঁড়ালেন? কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী বলেন, 'সাধারণ গরিব মানুষ দুর্ভোগ, অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন। সেখানে অসহায় মানুষের প্রকৃত সেবা করতে প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনীতিতে আসাটা খুবই জরুরি বলে মনে করেছি।'

  • Link to this news (এই সময়)