জঙ্গল সাফারি সেরে ফেরার পথে শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন একদল পর্যটক। দাঁতাল হাতির হামলায় বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছিল তাঁদের। ক্ষিপ্ত এক দাঁতাল হাতি তাঁদের জিপসির উপরেই চড়াও হয়েছিল। শেষে জিপসির চালকের উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহসের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরলেন ওই পর্যটকরা। বাড়ি ফিরলেও তাঁদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
মার্চের ১৬ তারিখে সপরিবার ডুয়ার্সে বেড়াতে গিয়েছিলেন খড়্গপুরের বাসিন্দা পূর্ণেন্দু দেবনাথ। শুক্রবার লাটাগুড়ির জঙ্গলে সাফারি শেষ করে ট্রেনে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। শুক্রবার সকালে লাটাগুড়ির জঙ্গলে সাফারি করে ফিরছিলেন পূর্ণেন্দু এবং তাঁর পরিবার। সেই সময়েই লাটাগুড়ি নেওড়া জঙ্গল ক্যাম্পের কাছে গোরুমারার একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির সামনে পড়ে যান তাঁরা। প্রায় ১০ মিনিট রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে হাতিটি। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কে থমকে যায় যান চলাচল।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলি টানা হর্ন দিতে থাকে। তাতেই মেজাজ হারায় ওই দাঁতাল। এক সময়ে রেগে গিয়ে সে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পূর্ণেন্দুদের গাড়িতে হামলা করে। একটি পা তুলে দেয় গাড়ির সামনের দিকে। বিপদ বুঝে তৎপর হন গাড়ির চালক গণেশ অধিকারী। জিপসিটিকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য পিছনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু, পিছনে একাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। খানিক পরে হাতিটি তার সামনের দু’টো পা-ই তুলে দেয় গাড়ির উপরে। ভয়ে কেঁপে ওঠেন পূর্ণেন্দু, তাঁর স্ত্রী সুপ্রীতি, শ্যালিকা এবং দুই শিশুসন্তান।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে পর্যটকদের উদ্ধার করতে উদ্যোগী হন গাড়ির চালক গণেশ এবং সাফারির গাইড বিপুল সরকার। তাঁদের ক্রমাগত চিৎকারে এবং গাড়ির ইঞ্জিনের বিকট শব্দে হাতিটি একসময় পিছু হঠে।
খবর পেয়ে লাটাগুড়ি রেঞ্জের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। হাতিটি তাঁদের গাড়ির দিকেও এক বার তেড়ে যায়। শেষে পটকা ফাটিয়ে হাতিটিকে জঙ্গলের গভীরে পাঠানো সম্ভব হয়। বন দপ্তর পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয়। এই ঘটনায় জিপসিটির ক্ষতি হয়েছে।
লাটাগুড়ির রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত বলেন, 'জিপসি চালক ও গাইডের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দাঁতাল হাতিটির গতিবিধির উপরে নজরদারি চালানো হচ্ছে।' লাটাগুড়ি জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সমীর দেব বলেন, 'গাইড ও চালকের সাহসিকতার কারণেই পর্যটকদের প্রাণ রক্ষা হয়েছে। ওঁদের তুলনা নেই।'