সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর
২০১১-তে রাজ্য জুড়ে পরিবর্তনের ঝড়ে দুর্গাপুর পূর্ব এবং পশ্চিম-দু'টি বিধানসভা (Durgapur East and West- Two Assembly Constituencies) থেকে অনায়াসে জিতেছিলেন প্রয়াত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় ও অপূর্ব মুখোপাধ্যায়। পাঁচ বছরের মধ্যে এই দুই আসনে রাতারাতি পরিবর্তন! দু'টি আসনেই হারেন তৃণমূল (TMC) প্রার্থী। ২০২১-এর নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র ফেরানো না-গেলেও (জেতে বিজেপি) খুব কম ভোটে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রে জেতেন বর্তমানে মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। এ বার কী হবে? এখনও পর্যন্ত সাদা চোখে যা ধরা পড়ে তা হলো, ভালো নেই শিল্পনগরীর শ্রমিকরা, যার নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনে।
এমনিতেই দুর্গাপুরে যে কোনও নির্বাচনে হার অথবা জিত নির্ধারণ করে শ্রমিকদের ভোট। দুর্গাপুরে এটাই দস্তুর। এখানে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি কারখানা রয়েছে। বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে নানা কারণে। বহু শ্রমিক কর্মহীন। যে সব কারখানা চালু, সেখানে স্থানীয় ছেলেদের কাজ নেই। অধিকাংশ বহিরাগত। কারখানায় কাজ না-পেয়ে স্থানীয় ছেলেদের একাংশ 'গিগ' শ্রমিকে পরিণত হয়েছেন। এই নিয়ে রয়েছে প্রবল ক্ষোভ। ক্ষোভ রয়েছে বেসরকারি কারখানার কর্মীদের। সিংহভাগ বেসরকরি কারখানায় শ্রমিকদের বেতন কাঠামো ঠিক নেই। পিএফ ও ইএসআই সংক্রান্ত সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। বহু কারখানায় শ্রমিকদের পে-স্লিপ পর্যন্ত দেওয়া হয় না। কাজের জায়গায় সুরক্ষার সরঞ্জাম নেই। সরকারি সংস্থায় স্থায়ী নিয়োগ নেই। ঠিকা শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। অভিযোগ, ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতে হলেও কাটমানি চাইছেন নেতারা। সবমিলিয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তা হলে শ্রমিক সংগঠনগুলি কী করছে? শাসকদল
তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র একটি কোর কমিটি আছে ঠিকই, কিন্তু শ্রমিকদের স্বার্থে তার ভূমিকা আশাব্যঞ্জক নয়। কোর কমিটির এক সদস্য মানস অধিকারী বলছিলেন, 'কারখানায় কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে কোর কমিটির কোনও ভূমিকা নেই। আমরা শ্রমিকদের স্বার্থ দেখি।' কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি তা হলে কে দেখবেন? কোনও সদুত্তর নেই কোর কমিটির সদস্যদের। অথচ গত কয়েক মাসে দুর্গাপুরে সরকারি থেকে নামী বেসরকারি সংস্থায় কয়েকশো কর্মী নিয়োগ হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, এদের সিংহভাগ বহিরাগত। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি তথা দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, 'বিজেপি কর্মীদের কথা বাদই দিন, নিজের দলের ছেলেদের কাজ দিতে পারেন না তৃণমূল নেতারা। কাটমানি নিয়ে বহিরাগতদের কাজ দেন। কাজ না-পেয়ে ক্ষুব্ধ দুর্গাপুরের মানুষ।' দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টে (Durgapur Steel Plant) গত কয়েক বছর ধরে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ নেই। প্রতিটি বিভাগে ঠিকাকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে, যাদের অধিকাংশই বহিরাগত। অভিযোগ, এই ব্যাপারে হেলদোল নেই কোর কমিটির সদস্যদের। সিটু নেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'আমরা বহু বার ম্যানেজমেন্টের কাছে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছি। প্রশিক্ষণ ছাড়াই ঠিকাকর্মীদের কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা বাড়ছে। এ সব নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি।'