• ঠাকুরবাড়িতে রাজ্যপাল কেন? তোপ তৃণমূল সাংসদ মমতাবালার
    এই সময় | ২১ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, ঠাকুরনগর: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly elections) মুখে ঠাকুরনগরে মতুয়াদের বারুনি মেলায় রাজ্যের নতুন রাজ্যপালের (Governor's) সফরকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তা নিয়ে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে শাসকদল। শুক্রবার ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শনে এসে মতুয়াদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের নীতি, আদর্শ এবং শিক্ষার কথা তুলে ধরেন রাজ্যের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল টিএন রবি। হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ এবং শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, সেটা স্কুল–কলেজের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    যদিও রাজ্যপালের ঠাকুরবাড়িতে আসার পিছনে রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পাচ্ছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর (Trinamool Rajya Sabha MP Mamata Bala Thakur) বলেন, ‘ভোটের মুখে ঠাকুরবাড়িতে এসে বিজেপির হয়ে রাজনীতি করতে এসেছেন রাজ্যপাল।’

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঠাকুরনগরে শুরু হয়েছে বারুনি মেলা। ইতিমধ্যেই মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশ তিথিতে কামনা সাগরে পুণ্যস্নান শেষ হয়েছে। তবে বারুনি মেলা এখনও চলছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, স্থানীয় বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের আমন্ত্রণে এ দিন সস্ত্রীক ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন রাজ্যপাল। এটাই তাঁর প্রথম ঠাকুরবাড়ি সফর। এ দিন ঠাকুরবাড়িতে আসার পরে তিনি প্রথমে হরিচাঁদ মন্দিরে যান। সেখানে পুজো দিয়ে চলে আসেন নাটমন্দিরে। রাজ্যপালকে স্বাগত জানান শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী সোমা ঠাকুর। মঞ্চে বক্তব্য রাখার আগে ‘জয় হরি বোল’ ধ্বনি তুলে সবার নজর কাড়েন তিনি।

    মতুয়া সমাজের প্রতি হরিচাঁদ ঠাকুরের অবদান কী ছিল, সেটা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘হরিচাঁদ ঠাকুরের একটাই মন্ত্র, হতাশ না হয়ে কাজ করুন। হাতে কাজ, মুখে নাম। এই মন্ত্রের মাধ্যমেই মতুয়া সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর নীতি, আদর্শ এবং শিক্ষা মতুয়াদের কাছে পথপ্রদর্শক। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের কাছে হরিচাঁদ ঠাকুরের বাণী ও আদর্শ পৌঁছে দিতে হবে। স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে হরিচাঁদ ঠাকুরের জীবনী, কর্ম ও শিক্ষার প্রতিফলন ঘটা প্রয়োজন।’ কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর (Union Minister of State for Shipping Shantanu Thakur) বলেন, ‘২০০৯ সালে ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছিলেন। কিন্তু এর আগে কেউ এমন ভাবে হরিচাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেননি। মতুয়ারা এতে আপ্লুত।’

    এ ব্যাপারে মমতাবালার কটাক্ষ, ‘ঠাকুর বাড়িতে এসেছেন বলে নতুন রাজ্যপালকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা ভেবেছিলাম, ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজ্যপাল কিছু বলবেন। কিন্তু তিনি এ নিয়ে কোনও কথা বলেন নি। ভোটের মুখে শান্তনু ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে এসেছিলেন রাজ্যপাল।’ তিনি বলেন, ‘ওনার জানা উচিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নবম, দশম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কারক হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ ও মতুয়াদের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার বরং বিষয়টিকে তাদের পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করুক।’

  • Link to this news (এই সময়)